ফেসবুকে স্প্যানিশ লিগ, খেপে আগুন দর্শকেরা

বার্সেলোনা আজ মাঠে নামবে। কিন্তু টিভিতে তাঁদের খেলা দেখা যাবে না। ছবি: এএফপি
বার্সেলোনা আজ মাঠে নামবে। কিন্তু টিভিতে তাঁদের খেলা দেখা যাবে না। ছবি: এএফপি
লা লিগার নতুন মৌসুম টিভিতে দেখার সুযোগ নেই। ফেসবুকে সরাসরি দেখা যাবে। এ নিয়ে উপমহাদেশের দর্শকদের জন্য ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ। সেই পোস্টের মন্তব্যে লা লিগাকে স্রেফ ধুয়ে দিয়েছেন উপমহাদেশের দর্শকেরা


মাঠে গড়িয়েছে স্প্যানিশ লা লিগার নতুন মৌসুম। কিন্তু তেমন কোনো আঁচ কি টের পাওয়া গেছে? বড় দলগুলো যদিও এখনো মাঠে নামেনি। কিন্তু প্রতিবারই তো মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা চায়ের দোকানে লা লিগার নানা হিসাব কষা শুরু হয়ে যায়। এবার কিন্তু তেমন কিছু সেভাবে চোখে পড়ছে না। তার কারণ বোধ হয় লা লিগা এবার টিভিতে দেখার সুযোগ নেই। এই টুর্নামেন্ট প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে ফেসবুক। তাই ফেসবুকে লা লিগা দেখতে হচ্ছে ফুটবলমোদীদের। এ নিয়ে কিন্তু উপমহাদেশের দর্শকদের ক্ষোভের কমতি নেই।

ফেসবুকে লা লিগার অফিশিয়াল পেজে উপমহাদেশের দর্শকদের জন্য একটি পোস্ট করা হয়েছে গতকাল। ইংরেজি বর্ণে মোট তিনটি ভাষায় (ইংরেজি, হিন্দি ও বাংলা) যে কথাগুলো লেখা হয়েছে—‘লা লিগা এখন আসছে ফেসবুকে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে। ২০১৮/১৯#লা লিগা মৌসুমের ৩৮০টি ম্যাচ সরাসরি দেখা যাবে ফেসবুকে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে।’

এই অঞ্চলে টিভিতে দেখা যাবে না লা লিগা। একমাত্র সম্বল ফেসবুক। এটা মানতে পারছেন না এই অঞ্চলের দর্শকেরা। ফেসবুকে লিওনেল মেসি কিংবা লুকা মদরিচদের খেলা সরাসরি দেখার ব্যাপারটা যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে, তা আগেই আন্দাজ করা গেছে। বাংলাদেশের উদাহরণ দেওয়া যায়। বেশির ভাগ মানুষই মোবাইলে ডেটা ব্যবহার করেন। অনেকে ব্যবহার করেন ফেসবুকের ফ্রি বেসিকস। যেখানে ভিডিও বা ছবি দেখা যায় না। বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ছোট ছোট ডেটা প্যাকেজ ব্যবহার করেন। সেখানে একটি ম্যাচ দেখতে হলে কমবেশি ৫০০ মেগাবাইট ডেটা খরচ হবে।

তা ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের নানা ঝক্কিঝামেলা তো রয়েছেই। সবাই ভালো গতির ইন্টারনেট সেবার আওতায় নেই। ফেসবুকে সরাসরি ভিডিও স্ট্রিমিং করতে হলে ভালো গতির নেট প্রয়োজন। এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন স্প্যানিশ লিগের দর্শকেরা। লা লিগার অফিশিয়াল পোস্টের নিচে করা মন্তব্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে যেন।

উপমহাদেশের দর্শকদের জন্য ফেসবুকে লা লিগার সেই পোস্ট। ছবি: ফেসবুক

রাজু মিয়া নামের এক বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী ইংরেজিতে মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেন। তাঁদের ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই সংযোগ নেই। তাই আমরা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে পুরো ম্যাচ দেখতে পারব না, কারণ এখানে ইন্টারনেটের গতি মোটেও ভালো নয়। বিশ্বাসই করতে পারছি না আমি, মেসির খেলা দেখতে পারব না।’

মোহাম্মদ মাহবুব নামের আরেক বাংলাদেশি ইংরেজিতে মন্তব্য করেছেন, ‘লা লিগা লাখ লাখ সমর্থক হারাবে। উপমহাদেশের সব জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ অত ভালো নয়। তাই সব ম্যাচ দেখা সম্ভব হবে না। আর তাই আমরা ইপিএল (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ) দেখব।’ বিক্রম চৌধুরী নামের এক ভারতীয়র মন্তব্য, ‘এটা আমার দেখা সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত। এর অর্থ হলো আমাদের ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ইন্টারনেটে থাকতে হবে, শুধু দুটি ম্যাচ দেখার জন্য। নেট ব্যালেন্সের দফারফা হয়ে যাবে। টিভিতে ম্যাচগুলো দেখালে দর্শকদের জন্য খুব ভালো হতো।’

নেপাল থেকে ঋষভ অধিকারীর মন্তব্য, ‘গ্রামের সব জায়গায় এখনো ওয়াইফাই পৌঁছায়নি। প্রায় ৭০ শতাংশ লা লিগা ভক্তের পক্ষে এখন খেলা দেখা সম্ভব নয়। আপনারা আশা করছেন আমরা ডেটা খরচ করে ফুটবল ম্যাচ দেখব? আমরা ডেটার ওপর প্রায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিই। লা লিগা এখন আমাদের কাছে বেশ খরুচে হয়ে গেল। যে খেলাটিকে আমরা ভালোবাসি তা নিয়ে সফল ব্যবসা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এখন যা আছে তার মধ্য থেকে বড়জোর ২০ শতাংশ দর্শক থাকবেন আগামী বছরের মধ্যে। উঠতি প্রজন্ম জানবে না লা লিগা কী।’

বেশির ভাগ দর্শক আরও একটি বড় প্রশ্ন তুলেছেন। টিভির বড় পর্দায় সাউন্ড দিয়ে খেলা দেখা আর মোবাইলে হেডফোন গুঁজে খেলা দেখার মজা কি এক? এমন মন্তব্যের সংখ্যা হাজারের ওপরে। লা লিগা কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে কি না, কে জানে?