১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজান রেফারি
১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজান রেফারি

ফেডারেশন কাপ ফুটবল

মাঠে এল না বসুন্ধরা, ১৫ মিনিট পর শেষ বাঁশি রেফারির

মাঠের একপাশে অনুশীলন করছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ, অন্য পাশ খালি। সে পাশটা আরেক দল বসুন্ধরা কিংসের জন্য বরাদ্দ। আজ দুপুর পৌনে চারটায় কমলাপুর স্টেডিয়ামে দেখা গেল এই দৃশ্য, যা ইঙ্গিত দিচ্ছিল ফেডারেশন কাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচটা হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।

ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময় বিকেল চারটার ঠিক আগে মাঠে নামেন রেফারি। সঙ্গে ছিলেন ম্যাচ কমিশনার সাবেক ফিফা রেফারি আর আলম। এরপর স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘও মাঠে নামে। নিয়ম অনুযায়ী অন্য দলের জন্য ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

অনুশীলন করছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ

আনুষ্ঠানিকতা শেষে ম্যাচ কমিশনার বলেন, ‘বাইলজে আছে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সেই অনুযায়ী মাঠে অপেক্ষার পর খেলা শেষ করেছি। এখন আমি আমার প্রতিবেদন বাফুফের কাছে জমা দেব। তারপর বাফুফে যা করার করবে।’

বাফুফের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় বক্তব্য দেবেন বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী। আজ সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় দ্বিতীয় ম্যাচের আগের টুর্নামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা। তখনই বাফুফের কর্মকর্তারা মাঠে আসবেন। তবে এসে কী করবেন, সেটাই আলোচ্য, খেলাই তো হচ্ছে না!

বসুন্ধরার ফুটবলারদের মাঠে দেখা যায়নি

ফেডারেশন কাপের বাইলজ অনুযায়ী, কোনো দল মাঠে না এলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হবে এবং বিষয়টা চলে যাবে বাফুফের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে। সাধারণত একটি দল মাঠে না এলে অন্য দল ওয়াকওভার পায়। এবং মাঠে না আসা দলটিকে বহিষ্কারও করা হয়। এ ক্ষেত্রে বাফুফের শৃঙ্খলা কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।

ফেডারেশন কাপের ফরম্যাটে শেষ মুহূর্তে বাফুফের আনা পরিবর্তনের প্রতিবাদে গতকাল বাফুফেকে চিঠি দেয় বসুন্ধরা কিংস। সেই চিঠিতে ২টি কারণ দেখিয়ে ফেডারেশন কাপে না খেলার কথা জানায় টুর্নামেন্টের গত দুবারের চ্যাম্পিয়নরা। পরে বসুন্ধরার দাবি অনুযায়ী সূচির ফরম্যাট আগের মতো করা হলেও টুর্নামেন্টে খেলছে না কিংস। কমলাপুর স্টেডিয়ামে টার্ফে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ এই কারণ দেখিয়েছে ক্লাবটি।

ম্যাচের আগের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নিয়েছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ

একই কারণ দেখিয়ে আজই দুপুরে বাফুফেকে চিঠি দিয়ে ফেডারেশন কাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় উত্তর বারিধারাও। ফলে আজই সন্ধ্যায় একই মাঠে আবাহনী-বারিধারা ম্যাচটাও যে হচ্ছে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে যায় দুপুরেই।

অথচ কমলাপুর স্টেডিয়ামে সবকিছুই প্রস্তুত। মাঠের চারপাশে বসানো হয়েছে বিলবোর্ড। যেখানে নানা বিজ্ঞাপন বসুন্ধরা গ্রুপের। এই টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক বসুন্ধরা গ্রুপ। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের দলই আজ মাঠে এল না খেলতে, বাংলাদেশের শীর্ষ ফুটবলে যা নজিরবিহীন এক ঘটনা।

যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে এমন এমনটা কখনো হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। অনেক টুর্নামেন্টের মাঝপথে ওয়াকওভার হয়েছে। তবে আজ যা হলো, দেশের ফুটবলে নতুন এক অশনিসংকেত ছাড়া আর কিছু নয়!