>

কিয়েভোর বিপক্ষে জুভেন্টাসে অভিষেক ম্যাচটা রাঙানো হয়নি রোনালদোর। জয় পেলেও গোল পাননি। এমন কয়টি ক্লাব চুপ রাখতে পেরেছিল সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারকে?
তিনি সময়ের সেরা ফুটবলার কি না, তা নিয়ে তর্ক সব সময়ই হয়। সমকাল গন্ডি ছাড়িয়ে সর্বকালেও যেতে পারে তর্কটা। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে সর্বকালের সেরা গোলস্কোরারদের একজন, তা নিয়ে অমত করবে, সে সাধ্য কার! ক্লাব ফুটবলে ৭৫৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৫৭১ গোলই তাঁর হয়ে যা বলার বলে দেয়। জাতীয় দলের রেকর্ডটা তো আছেই। পর্তুগালের জার্সিতে ১৫৪ ম্যাচে ৮৫ ম্যাচ গোল রোনালদোকে নিয়ে গেছে ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে।
সেই রোনালদোকেই ম্যাচে চুপ করিয়ে রেখেছে, এমনটা খুব বেশি দল বলতে পারবে না!
কথাটা আসছে ইতালিতে রোনালদোর প্রথম ম্যাচের পর। কিয়েভোর বিপক্ষে অনেক মাথা কুটেও একটা গোল পাননি জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড। কখনো গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য সেভ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তো কখনো শট নিয়েছেনই সূক্ষ্মকোণ থেকে! তা কিয়েভোর মতো এমন কীর্তি আর কটি দলের আছে? বিশেষ করে লিগের ম্যাচে, যেখানে সব ঠিকঠাক থাকলে মৌসুমে অন্তত দুবার রোনালদোকে আটকানোর হ্যাপা সইতে হয় দলগুলোকে?
নয়টি! ক্যারিয়ারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লিগ ও সর্বশেষ ইতালিয়ান লিগ মিলিয়ে ক্যারিয়ারে কম ক্লাবের তো মুখোমুখি হননি! তাতে শুধু নয়টি ক্লাবই রোনালদোকে গোলবঞ্চিত রাখতে পেরেছে। ২০০৩ সালে লিডস ইউনাইটেডকে দিয়ে শুরু, কিয়েভো যাতে সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্যে অবশ্য কিয়েভোসহ ছয়টি ক্লাবের সঙ্গে রোনালদো লিগে মুখোমুখিই হয়েছেন মাত্র একবার করে।
শুরুতেই যত ঝামেলা। ২০০৩ সালে স্পোর্টিং লিসবন ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসার পর লিগে গোলের দেখা পেতে রোনালদোর লেগেছে আট ম্যাচ। নতুন লিগ, নতুন দেশ ও নতুন দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে আর কী তরুণ রোনালদোর! সেটিরই ‘সুবিধা’টা পেয়েছে লিডস ইউনাইটেড, আর উলভারহ্যাম্পটন। ২০০৩ সালের নভেম্বরে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ইংলিশ লিগে গোলের খাতা খোলার পর আবার দশ ম্যাচের গোলবিরতি রোনালদোর। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বিতে দ্বিতীয় গোলটি পাওয়ার আগে চেলসির সঙ্গে লিগে ম্যাচ ছিল রোনালদো।
এই চেলসিই রোনালদোকে যত ভুগিয়েছে! লিগ তো বটেই, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া অন্য সব টুর্নামেন্টে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে চুপ রাখার টোটকা কীভাবে যেন আবিষ্কার করে ফেলেছিল পশ্চিম লন্ডনের দলটি। পারেনি শুধু ২০০৮ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। সবচেয়ে বড় মঞ্চে হেসেছেন রোনালদো। ম্যাচে একটা গোল করেছেন, টাইব্রেকারে মিস করলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা উৎসবও করেছেন। এর বাইরে শেফিল্ড ইউনাইটেড, ক্রিস্টাল প্যালেস, লেস্টার সিটি, নরউইচও গোল করতে দেয়নি রোনালদোকে। ইংল্যান্ডে অ্যালেক্স ফার্গুসনের হাতে তখনো তরুণ রোনালদো ধীরে ধীরে শাণিত হচ্ছিলেন কি না!
যেটির পুরো ফায়দাটা তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ! ২০০৯ সালে স্পেনে আসার পরই তো মুড়িমুড়কির মতো গোল করে গেছেন রোনালদো। ইংল্যান্ডে ছয় বছরে লিগে ৩১টি ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে যেখানে ছয়টির বিপক্ষে গোল নেই, রিয়ালের নয় বছরে লিগে ৩৩টি ক্লাবের ৩২টির বিপক্ষেই গোল পেয়েছেন রোনালদো। নেই কার বিপক্ষে? প্রশ্নটা শুনে লেগানেস ক্লাবের সঙ্গে জড়িত সবাই মুচকি হাসছে!
ওহ, তালিকাটায় পর্তুগিজ লিগের দলগুলোকে হিসাবে নেওয়া হয়নি। ১৭ বছরেই রোনালদো পর্তুগাল ছেড়ে চলে এসেছিলেন বলেই হয়তো! সেটি তো মাঠে নেমে দু-এক মিনিট খেলেই তৃপ্ত হওয়ার বয়স। আরও নিয়মিত কীভাবে হওয়া যায়, সে পথ খোঁজার বয়স। পর্তুগিজ লিগ ১৩টি ক্লাবের বিপক্ষে রোনালদোর রেকর্ডেও সেই বয়সেরই ছাপ, গোল পেয়েছিলেন মাত্র ২টি ক্লাবের বিপক্ষে।
শুধু লিগ ছাড়িয়ে পুরো ক্যারিয়ারে গেলে অবশ্য ‘রোনালদোকে চুপ রাখা’ এমন অনেক ক্লাবেরই দেখা মিলবে। সব দেশ, সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ১৩৪ ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছেন রোনালদো। গোল পেয়েছেন ‘মাত্র’ ৯৫টি ক্লাবের বিপক্ষে!
লিগে গোল পাননি রোনালদো | |
দল | ম্যাচ |
চেলসি | ৭ |
শেফিল্ড ইউনাইটেড | ২ |
উলভারহ্যাম্পটন | ২ |
লিডস ইউনাইটেড | ১ |
নরউইচ সিটি | ১ |
ক্রিস্টাল প্যালেস | ১ |
লেস্টার সিটি | ১ |
লেগানেস | ১ |
কিয়েভো | ১ |