
ওই গোলটার কথা মনে আছে? প্রশ্নটি প্রায়ই শুনতে হয় মতিউর মুন্নাকে। মৃদু হেসে উত্তর দেন, ‘মনে থাকবে না কেন? অবশ্যই মনে আছে।’
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরেই এমন প্রশ্ন শুনছেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। আজকের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে শুনতে হয়েছে একটু বেশিই। ২০০৩ সালে তাঁর গোলেই যে সবশেষ ভারতের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ।
তাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ এলেই আলোচনায় আসেন মতিউর মুন্না। তাঁকে বলতে হয় স্মরণীয় সেই গোল্ডেন গোলের কথা। ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন রোকনুজ্জামান কাঞ্চন। ১-১ ড্র শেষে অতিরিক্ত সময়ে খেলা চলছিল। ৯৮ মিনিটে ভারতের খেলোয়াড়েরা মিস পাস করায় মাঝমাঠের একটু সামনে। বাঁ দিকে বল পান মতিউর মুন্না। একজনকে কাটিয়ে মুন্না ৩০-৩২ গজ দূর থেকে আচমকা দূরের পোস্টে মেরে দেন। গোল্ডেন গোল! ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। শেষ লড়াইয়ে টাইব্রেকারে জয় আসে মালদ্বীপের বিপক্ষে।
সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। গত চারটি সাফে গ্রুপ স্তরই পার হওয়া যায়নি। তাই ২০০৩ সালের সাফল্যটা অনেক বড় সাফল্যই হয়ে আছে আজও। একই সঙ্গে মতিউর মুন্নার গোলটিও বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ এক জায়গা নিয়েছে।
সেই গোল্ডেন গোল নিয়ে মুন্না আজও আপ্লুত। আজকের ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের শুভকামনা জানিয়ে ১৮ বছর পেছনে তাকালেন তিনি। প্রথম আলোকে বললেন, ‘ওই রকম আসলে হয়ে যায় হঠাৎ। আমাকে যদি বলা হয় আগামী ১০০ বছরে ওই রকম একটা গোল করতে। আমি বলব সম্ভব নয়। এটা ওই দিন হয়ে গেছে। আমি পরিকল্পনা করে মেরেছি তা–ও নয়। ওটা ছিল গোল্ডেন গোল। এরপর গোল্ডেন গোল বন্ধ হয়ে যায়।’
মুন্নার বিশ্বাস, তাঁর ১৮ বছর আগের সেই গোলের চেয়েও ভালো গোল হয়ে যেতে পারে আজ। কখন কী হয় মাঠে বলা যায় না। সাফের সেই সেমিফাইনালে গোল করবেন এমন কোনো পণ করে মাঠে নামেননি। তবে মাঠে এসে ভরা গ্যালারি দেখে মনে হয়েছিল কিছু একটা করা দরকার।
‘বাংলাদেশকে বল আরেকটু নিজেদের পায়ে রাখতে হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমাদের বল পজেশন ভালো ছিল না। এই জায়গায় উন্নতির বড় সুযোগ রয়েছে। তা ছাড়া এত লম্বা বল না খেলাই ভালো। আমার মনে হয়, চাপ না নিয়ে মুক্ত ফুটবল খেলতে পারলে ভারতের বিপক্ষে আমাদের জয়ের খরা দূর হবে।’মতিউর মুন্না, সাবেক ফুটবলার
মুন্না এখন ঢাকাতেই থাকেন। ব্যস্ত আছেন নিজের জীবন নিয়েই। ফুটবলের সঙ্গে তেমন যোগযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটি দেখেছেন। ম্যাচ দেখবেন আজও। এবং তাঁর বিশ্বাস হিসাবি ফুটবল খেললে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো দল নয়। দরকার শুধু মাঠে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়া। মতিউর মুন্না বলছেন, ‘বাংলাদেশকে বল আরেকটু নিজেদের পায়ে রাখতে হবে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমাদের বল পজেশন ভালো ছিল না। এই জায়গায় উন্নতির বড় সুযোগ রয়েছে। তা ছাড়া এত লম্বা বল না খেলাই ভালো। আমার মনে হয়, চাপ না নিয়ে মুক্ত ফুটবল খেলতে পারলে ভারতের বিপক্ষে আমাদের জয়ের খরা দূর হবে।’
নিচ থেকে খেলাটা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন মতিউর মুন্না। বলছেন, প্রতিপক্ষের পায়ে বল জমা দিলে হবে না। নিজেদের কাছে বল পজেশন রেখে খেলা চাই। যেটা আফগানদের সঙ্গে ছিল না। তবে ওই ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটা খুব প্রশংসনীয়। আজও মাঠে তেমন কিছু করে দেখাতে হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সর্বশেষ তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ভারত ১২ বছর আগে সর্বশেষ হারায় বাংলাদেশকে। কাজেই আজ তারা তেড়েফুড়েই আসবে। তবে মতিউর মুন্না মনে করেন, ভারত এমন দল নয় যে হারানো যাবে না। তবে দলটির অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীসহ কয়েকজন খেলোয়াড় অনেক ভালো। ফিফার তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে। বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তারা এগিয়েছে। নইলে ভারত অধরা কোনো দল নয়। মাঠে মনোবল রেখে ভালো খেলারও গুরুত্ব দিচ্ছেন মতিউর মুন্না।
তাঁর কথা, ‘ভালো খেলার চেষ্টাটাই আসল। ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচ এবং সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। কলকাতায় জিততে জিততে আমরা ড্র করেছিলাম। আফগানিস্তান ম্যাচে শেষ দিকে সমতা এনেছি। আমরা এখন গোল খেলেই সব শেষ বলে ধরে নিই না। বাংলাদেশ এখন লড়াই করে। আজও করবে। শুভকামনা বাংলাদেশ।’