
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে উয়েফা। ফলে বুধবার রিয়ালের বিপক্ষে ফিরতি লেগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারছেন না তিনি। আজ উয়েফা এক বিবৃতিতে প্রেসতিয়ান্নিকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে, ‘আমরা মিস্টার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে উয়েফা ক্লাব প্রতিযোগিতায় পরের ম্যাচের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
প্রথম লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের পর ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন, প্রেসতিয়ান্নি তাঁকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উয়েফা একজন নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ করেছে বিষয়টি তদন্তের জন্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে প্রেসতিয়ান্নির জন্য আরও বড় শাস্তি আসতে পারে। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, বর্ণবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন এই আর্জেন্টাইন।
বেনফিকা অবশ্য তাদের খেলোয়াড়ের পাশেই দাঁড়িয়েছে। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করবে, তবে প্রেসতিয়ান্নি কোনো ‘ষড়যন্ত্রের’ শিকার কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। প্রেসতিয়ান্নি নিজেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সেই ম্যাচে ভিনিসিয়ুস একমাত্র গোলটি করার পর প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। রিয়ালের খেলোয়াড়েরা মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে কিছু বলছিলেন। রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, প্রেসতিয়ান্নি অন্তত পাঁচবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে ডেকেছেন।
ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস সরাসরি কথা না বললেও ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে লেখেন, ‘বর্ণবাদীরা আসলে কাপুরুষ। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে তাদের জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকতে হয়।’
অন্যদিকে প্রেসতিয়ান্নি তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে আমি কোনো বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি। দুর্ভাগ্যবশত সে যা শুনেছে বলে ভাবছে, তা ভুল। আমি কোনো দিন কারও সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করিনি। উল্টো রিয়াল খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমি যে হুমকি পেয়েছি, তা দুঃখজনক।’