
রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীনভাবে শেষ করার পথে আছে ক্লাবটি। যার প্রভাব পড়েছে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশেও। মৌসুমের শেষভাগে এসে উত্তেজনা এখন রীতিমতো চরমে পৌঁছেছে। দলের ভেতরের পরিবেশে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক নানা কার্যকলাপে তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
উত্তেজনার ধারায় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো প্রথমে এল ক্লাসিকোর অনুশীলনে দলের দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির হাতাহাতির খবর দিয়েছিল। এক ফাউলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই বাগ্বিতণ্ডা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয় এবং মাঠেই একে অপরকে ধাক্কা দেন তারা।
তবে এই বিরোধ শুধু ভালদেবেবাসের ড্রেসিংরুম পর্যন্ত গড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের ভেতরে এই দুই খেলোয়াড় নতুন করে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, যা আগের দিনের ঘটনাকেও হার মানিয়েছে।
এই দ্বিতীয় দফার লড়াই থামাতে দলের অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং পরিস্থিতি এতটাই সহিংস ছিল যে উরুগুয়ান মিডফিল্ডার ভালভের্দেকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেও যেতে হয়েছে।
নজিরবিহীন এই ঘটনার পরপরই ড্রেসিংরুমের ভেতরে জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে দীর্ঘক্ষণ কোনো খেলোয়াড়কে ট্রেনিং গ্রাউন্ড ত্যাগ করতে দেওয়া হয়নি। বিব্রতকর এই ঘটনাকে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এখন পুরো দলের মধ্যে বিভাজন ও চরম স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এখন এই গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
রিয়াল যে শিরোপা–খরায় থাকার চাপ নিতে পারছে না, এসব বিব্রতকর ঘটনাতেই তা পরিষ্কার। শুধু ভালভের্দে-চুয়ামেনির হাতাহাতিই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা দলের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ এত দূর গড়িয়েছে, অনেকে নাকি একে অপরের সঙ্গে খুব একটা কথাও বলেন না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোচ আলভারো আরবেলোয়ার জন্য পরিবেশ বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্তত ছয়জন খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে আন্তোনিও রুডিগার ও আইভারো কারেরাসের মধ্যকার বিরোধের খবরও সামনে এসেছিল। তবে কারেরাস জানিয়েছেন, রুডিগারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এখন মিটে গেছে। পাশাপাশি ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিয়ালে চলমান বিতর্কের মধ্যে নাম আছে কিলিয়ান এমবাপ্পেরও। চোটে ভোগার পাশাপাশি দলের ভেতরও তাঁকে নিয়ে অস্বস্তির খবর এসেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইতালিতে তাঁর অবকাশযাপন নিয়েও চলছে সমালোচনা।
এ ঘটনায় পরিস্থিতি এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দিতে হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই বেগতিক যে এমবাপ্পেকে রিয়াল থেকে বাদ দিতে ‘এমবাপ্পে আউট’ নামে যে পিটিশন খোলা হয়েছে, সেখানে এরই মধ্যে আড়াই কোটির বেশি লোক স্বাক্ষর করেছেন।
সব মিলিয়ে মাঠের ব্যর্থতা রিয়ালের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পুরো মৌসুমই যেন দলটির জন্য এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এমন যে মৌসুমটা দ্রুত শেষ হলেই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।