নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর
নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর

এক মিনিটও সুযোগ হলো না, রোনালদোর এমন অভিজ্ঞতা ১৮ বছর পর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগালের একাদশে না দেখা এখন আর খুব বড় ঘটনা নয়। কিন্তু বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পরও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে না নামানো? ১৮ বছর পর আবার এমন কিছু দেখল পর্তুগাল।

রোববার নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে একাদশে রাখেননি কোচ জর্জ জেসুস। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁকে ওয়ার্মআপ করতেও দেখা যায়। মনে হচ্ছিল, কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাঠে নামবেন পর্তুগালের অধিনায়ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচই বেঞ্চে কাটিয়েছেন তিনি। তাঁকে ছাড়া পর্তুগাল জিতেছে ২–১ গোলে। আর জয়সূচক গোলটি করেছেন তাঁরই জায়গায় খেলা গনসালো রামোস।

পর্তুগালের হয়ে কোনো অফিশিয়াল ম্যাচে রোনালদো পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে ছিলেন সর্বশেষ ২০০৮ সালের ইউরোয়। ১৫ জুন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি ছিল আনুষ্ঠানিকতার। এর আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল পর্তুগাল। তৎকালীন কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি তাই তাই বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন সুইসদের বিপক্ষে। রোনালদোও ছিলেন বেঞ্চে। ম্যাচটি ২–০ গোলে জিতেছিল সুইজারল্যান্ড।

নরওয়ের বিপক্ষে পুরোটা সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো

সে দিনের পর ম্যাচের স্কোয়াডে থেকেও পুরোটা সময় বেঞ্চে কাটিয়েছিলেন আর একবারই। ২০২৪ সালের ৮ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এটি ছিল ইউরো সামনে রেখে প্রীতি ম্যাচ। আগের দিনই সৌদি আরবের আল নাসর থেকে দলে যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো। এটিও ছিল পর্তুগাল কোচের জন্য আসন্ন টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে পরীক্ষা–নিরীক্ষার।

ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে থাকার অভিজ্ঞতা রোনালদোর হলে দীর্ঘ দেড় যুগ পর। নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোকে না খেলানোর পেছনে চোট বা শারীরিক কোনো সমস্যাও ছিল না। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ জেসুস নিজেই নিশ্চিত করেছেন সেটি। তাহলে কেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামাননি, ‘আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথাও বলেছিলাম যে শেষ আধা ঘণ্টায় সে মাঠে নামবে। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেটি আর প্রয়োজনীয় মনে হয়নি।’

পর্তুগালের পরিকল্পনা বদলে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল রামোসের পারফরম্যান্স। রোনালদোর বদলে একাদশে জায়গা পাওয়া এই ফরোয়ার্ড গোল করেছেন, আরও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। ফলে তাঁকে তুলে নিয়ে রোনালদোকে নামানোর প্রয়োজন দেখেননি জেসুস, ‘গনসালো ভালো খেলছিল, গোল করেছে, আরেকটি গোল বাতিল হয়েছে। তাই মনে হয়েছে, তাকে তুলে নেওয়ার সঠিক সময় এটা নয়।’

ম্যাচশেষে টানেল ধরে বেরিয়ে যান রোনালদো, সতীর্থরা যান গ্যালারিতে পর্তুগিজ দর্শকের কাছে

শেষ দিকে অবশ্য নরওয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছিল। তখন জেসুসের কাছে ম্যাচের ভারসাম্য ধরে রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রোনালদোকে নামানোর বদলে ভিন্ন ধরনের একজন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি, ‘ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে পরিস্থিতিও বদলেছে। তখন ক্রিসকে নামানোর সঠিক সময় আর ছিল না। ফল ও দলের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে আমাদের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল।’

কারও কারও ধারণা, ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর গেম টাইম কমিয়ে আনার পরিকল্পনা থেকে বেঞ্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জেসুস। সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন ওঠার পর উড়িয়েই দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ, ‘এর মানে এই নয় যে সে দলের পরিকল্পনার বাইরে চলে গেছে—বরং উল্টোটা।’

পর্তুগালের পরের ম্যাচ ডেনমার্কের বিপক্ষে, ১ অক্টোবর।