লিয়াম রোজনিয়র
লিয়াম রোজনিয়র

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

১০৬ দিনে ছাঁটাই রোজনিয়র, চেলসির নতুন স্থায়ী কোচ কে

ব্রাইটনের বিপক্ষে গত মঙ্গলবার রাতের হারটি ছিল প্রিমিয়ার লিগে চেলসির টানা পঞ্চম হার। এ পাঁচ ম্যাচে হারের পথে তারা কোনো গোলও করতে পারেনি—যেটা ১৯১২ সালের পর এই প্রথম। এরপর চেলসির মতো ক্লাব হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, সেটা সম্ভবত কেউ ভাবেননি। এমন পরিস্থিতিতে চেলসি সাধারণত যেটা করে, ঠিক সেটাই করেছে—ছাঁটাই করা হয়েছে কোচ লিয়াম রোজনিয়রকে।

ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবুর্গ থেকে গত জানুয়ারিতে চেলসি কোচের দায়িত্ব নেন রোজেনিয়র। চেলসির মালিক টড বোয়েলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের মালিকানাধীন স্ট্রাসবুর্গ থেকে ইংলিশ ক্লাবটিকে যোগ দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছিলেন রোজনিয়র। কিন্তু টিকতে পারলেন না চার মাসও। ১০৬ দিনের মাথায় চেলসির প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হলেন এই ইংরেজ। গতকাল রাতে তাঁকে ছাঁটাইয়ের খবরটি নিশ্চিত করে চেলসি।

ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চেলসি ফুটবল ক্লাব আজ (গতকাল) প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চেলসি পরিবারের পক্ষ থেকে লিয়াম ও তাঁর সহযোগীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ক্লাবে থাকাকালে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার জন্য আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’

রোজনিয়রের মতো তাঁর পূর্বসূরি এনজো মারেস্কাকেও বাজে পারফরম্যান্সের জন্য কোচ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল চেলসি। রোজনিয়র এসেও চেলসিকে টেনে তুলতে পারেননি। ক্লাবটির কোচ হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে মাত্র ১১ জয়, ১০ হার ও ২ ড্র। গত ৩৩ বছরের মধ্যে চেলসি কোচ হিসেবে রোজনিয়রই দ্রুততম সময়ে ১০টি ম্যাচ হেরেছেন। তাঁর আগে ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে চেলসি কোচ হিসেবে ২০ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই হারেন গ্লেন হডল।

রোজনিয়রকে হয়তো আরও কিছুদিন রাখত চেলসি, কিন্তু ব্রাইটনের বিপক্ষে হারের ম্যাচে ক্লাবটির সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পাশাপাশি হারের পর দলের পারফরম্যান্সকে রোজনিয়র নিজেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অসমর্থনযোগ্য’ বলেন। এরপরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, চেলসির ড্রেসিংরুমের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন রোজনিয়র এবং ছাঁটাইও হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ঘটলও ঠিক সেটাই।

রোজনিয়রও বিদায় নিলেন ব্যর্থতা নিয়ে

রোজেনিয়রের সহকারী ক্যালাম ম্যাকফারলেন চলতি মৌসুমে বাকি সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী রোববার লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনাল দিয়ে চেলসির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর যাত্রা শুরু হবে।

চেলসি অনূর্ধ্ব-২১ দলের সাবেক কোচ ম্যাকফারলেন চলতি মৌসুমে এর আগেও মারেস্কা ও রোজেনিয়রের মধ্যবর্তী সময়ে ক্লাবটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব সামলান।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ৮ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতেই হেরে যাওয়া চেলসি প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট তালিকায় অষ্টম। ৪ ম্যাচ হাতে রেখে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার দৌড়ে টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। পাঁচে থাকা লিভারপুলের চেয়ে তারা ৭ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে।

চেলসি স্থায়ীভাবে কোচ হিসেবে কাকে নিয়োগ দিতে পারে, তা নিয়েও বিস্তর বিশ্লেষণ চলছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে। তবে এর মধ্যে বোর্নমাউথের কোচ আন্দোনি ইরাওলার নামটি জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। ৪৩ বছর বয়সী ইরাওলা গত সপ্তাহে ঘোষণা দেন, মৌসুম শেষে বোর্নমাউথ ছাড়বেন। ফুলহামের কোচ মার্কো সিলভা ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক কোচ এদিন তেরজিচের নামও উঠে এসেছে আলোচনায়।

তবে কয়েকটি হেভিওয়েট নামও আছে আলোচনায়। জাবি আলোনসো, সেস্ক ফ্যাব্রেগাস এবং ইউরিয়ান নাগলসমানের নামও উঠে এসেছে। তবে কোনো তারকা কোচকে নিয়োগ দেওয়া চেলসির জন্য সহজ হবে না। দ্য টেলিগ্রাফকে সূত্র জানিয়েছে, চেলসির বর্তমান ‘যৌথ কর্মপদ্ধতি’ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসায় ক্লাবটির জন্য জুতসই কোচ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। সূত্রটির ভাষায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ের কোন কোচ চেলসির দায়িত্ব নিতে চাইবেন? কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’

টানা ৫ লিগ ম্যাচে জয়হীন চেলসি

২০২২ সালে মার্কিন ধনকুবের টড বোয়েলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল চেলসির মালিকানায় আসার পর এখন পাঁচ নম্বর স্থায়ী কোচের খোঁজ করছে চেলসি। ওদিকে খেলোয়াড় কিনতে খরচ করেছে প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা)।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিন শেষ হতেই তারা বরখাস্ত করেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী কোচ টমাস টুখেলকে। এরপর তাঁর উত্তরসূরি গ্রাহাম পটারকেও ছাঁটাই করা হয় মাত্র সাত মাসের মাথায়। দুজনের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় স্বল্প সময়ের জন্য চেলসির ডাগআউটে ফিরেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। এরপর টটেনহামের সাবেক কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দায়িত্ব নিলেও এক মৌসুম শেষেই দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ক্লাব ছাড়েন তিনি।

মারেস্কা কোচের দায়িত্ব নিলেও গত জানুয়ারিতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। উয়েফা কনফারেন্স লিগের পর ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের ছয় মাস পার হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হয় তাঁকে। এরপর রোজনিয়রকেও বিদায় নিতে হলো। এই ছয় কোচের মধ্যে শুধু ল্যাম্পার্ডই ছিলেন স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বে।

চেলসির সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিন বিবিসি রেডিও ফাইভকে বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি সামনে থাকার পরও কেউ যদি অবাক হন, তবে তাঁকে সরলই বলতে হবে। নতুন মালিকপক্ষের অধীন এটি চতুর্থ মৌসুম চলছে। এর মধ্যে ছয়জন কোচ পরিবর্তন করা হলো। যখন এতবার কোচ বদলানো হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—সমস্যাটা কি আসলে কোচের?’