
আসরটা যখন ৪৮ দলের, তখন বিচিত্র অনেক কিছুই ঘটা স্বাভাবিক। হয়তো র্যাঙ্কিয়ের তলানির কোনো দল ফেবারিটদের চমকে দেবে, আবার কোনো শক্তিশালী দলের সামনে গোলের বন্যায় ভেসে যাবে আন্ডারডগরা।
এবারের আসরে যেমন শেয়ানেেয়ানে টক্করের ম্যাচ আছে, তেমনি শক্তিমত্তার আকাশ-পাতাল তফাতের লড়াইও আছে বেশ কয়েকটি।
এই যেমন ‘সি’ গ্রুপের ব্রাজিল–হাইতি ম্যাচ। ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচে দেখা যাবে র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে বড় ব্যবধান। ফিফা র্যাঙ্কিয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ছয়ে, হাইতি ৮৩–তে। অর্থাৎ ৭৭ ব্যবধান দুই দলের।
শুধু র্যাঙ্কিং নয়, দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও বড় ব্যবধান। তিনবারের দেখায় প্রতিটিতেই জিতেছে ব্রাজিল, যার শেষ দুই ম্যাচেই তারা হাইতির জালে দিয়েছে ১৩ গোল। তা ছাড়া হাইতি বিশ্বকাপে ফিরল দীর্ঘ ৫২ বছর পর, সর্বশেষ তারা খেলেছিল ১৯৭৪ সালে।
কেবল ব্রাজিল-হাইতি নয়; বেলজিয়াম-নিউজিল্যান্ড, জার্মানি-কুরাসাও, ইংল্যান্ড-ঘানা এবং স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচেও র্যাঙ্কিং ব্যবধান অনেক। বেলজিয়াম এবার ফেবারিট না হলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সহজেই জেতার কথা। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে আসা নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ৭৬ ধাপ এগিয়ে বেলজিয়াম (যথাক্রমে ৯ ও ৮৫)। জার্মানি–কুরাসাওয়ের মধ্যে ব্যবধান ৭২ ধাপের। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি র্যাঙ্কিংয়ে এখন দশম।
অপর দিকে র্যাঙ্কিয়ের ৮২ নম্বরে থাকা কুরাসাও এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের টিকিট পেয়েছে। ফলে গ্রুপ ‘ই’-এর এই ম্যাচটিতে দুই দলের অভিজ্ঞতা ও শক্তির যোজন যোজন তফাত চোখে পড়বে। ম্যাচটি হবে ১৪ জুন হিউস্টন স্টেডিয়ামে। ‘এল’ গ্রুপের ইংল্যান্ড–ঘানা ম্যাচে র্যাঙ্কিং পার্থক্য ৬৯।
চতুর্থ স্থানে থাকা ইংল্যান্ডকে অবশ্য ৭৩তম ঘানার বিপক্ষে শতভাগ ফেবারিট ধরা যাবে না। আফ্রিকান দেশটির ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো আর ২০১০ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
আর ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপে অনেক অপ্রত্যাশিত দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে মানুষ। সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। তারও আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে হেরেছিল আকাশি-নীলরা।
আর ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইতালিকে হারিয়ে উত্তর কোরিয়ার নকআউট পর্বে যাওয়ার অঘটন তো ফুটবল রূপকথার অংশ। তবে র্যাঙ্কিংয়ে বড় ব্যবধান শক্তির পার্থক্য তুলে ধরলেও নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই বলবে শেষ কথা।