চলতি মৌসুমে সব হারানো লিভারপুলের লক্ষ্য এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়া। ফলে সামনে থাকা সব ম্যাচই এখন দলটির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। তেমন এক ম্যাচে আজ রোববার রাতে এভারটনের মুখোমুখি হয়েছিল আর্নে স্লটের দল। নানা দিক বিবেচনায় মার্সিসাইড ডার্বির এ ম্যাচটিতে চোখ ছিল অনেকের।
এভারটনের নতুন মাঠ হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে এটি ছিল প্রথম ডার্বি ম্যাচ। যেটি আবার লিভারপুলের হয়ে মোহাম্মদ সালাহর শেষ ডার্বি ম্যাচও বটে। এমন ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে লিভারপুল। এভারটনের বিপক্ষে লিভারপুলের জয় ২–১ গোলে। লিভারপুলকে প্রথমার্ধে এগিয়ে দেন সালাহ। পরে বেতোর গোলে সমতা ফেরায় এভারটন। সেই সেই সমতাতেই শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ম্যাচ।
কিন্তু যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে চমক উপহার দেন লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। কর্নার থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলই নিশ্চিত করে লিভারপুলের জয়। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে থাকল লিভারপুল। ১০ নম্বরে থাকা এভারটনের পয়েন্ট ৪৭। রাতের অন্য ম্যাচে স্যান্ডারল্যান্ডকে ৪–৩ গোলে হারিয়েছে চারে থাকা অ্যাস্টন ভিলা। যাদের পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৫৮।
এভারটনের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতি–আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। গতিময় ফুটবলে দুই দলই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রাখে। তবে প্রথম দিকে এভারটনের চেয়ে লিভারপুলই চাপে ছিল বেশি। এভারটন একাধিকবার কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয়।
শেষ পর্যন্ত ২৭ মিনিটে হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে মার্সিসাইড ডার্বির প্রথম গোলটি করেন ইলিমান এনদিয়ায়ের। তখন পর্যন্ত যোগ্যতম দল হিসেবেই গোলটি পেয়েছিল তারা। ডান দিক থেকে জ্যাক ও’ব্রেইনের ক্রসে বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন এনদিয়ায়ে; কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর দেখা গেল, ও’ব্রায়েন অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
গোল বাতিল হওয়ার হতাশা থেকে বেরোনোর আগেই উল্টো গোল পিছিয়ে পড়ে এভারটন। ৩০ মিনিটে মার্সিসাইড ডার্বিতে নিজের শেষ ম্যাচেই গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন সালাহ। মাঝমাঠে ভুল করে বল হারান এভারটনের ডিউইট ম্যাকনেইল। সেই সুযোগে কোডি গাকপো নিখুঁতভাবে বল বাড়ান সালাহর দিকে। পুরো ফাঁকা জায়গা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় শট নেন সালাহ, আর বল জড়িয়ে যায় জালে। ভালো খেলেও পিছিয়ে পড়ে এভারটন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি এভারটন।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় এভারটন। তবে ৫৪ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি অনেকটা আকস্মিকভাবেই পেয়ে যায় তারা। হঠাৎ বাঁ দিকের চ্যানেলে একটি লং পাস আসলে সেটি ধরার জন্য দৌড়ে যান এনদিয়ায়ে ও ডিউসবারি–হল। ইব্রাহিমা কোনাতেকে পেছনে ফেলে বল পেয়ে যান হল। তিনি গোলমুখে দারুণভাবে বল বাড়ান। সেখানে অপেক্ষায় থাকা বেতো ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ালে ম্যাচে ফিরে আসে এভারটন।
এরপর ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দুই দলই চেষ্টা করেছে লিড নেওয়ার। এভারটন ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে লিভারপুল। শেষ মুহূর্তে ফন ডাইকের গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য।