
হাভিয়ের কাবরেরাকেই কি রেখে দেওয়া হবে, নাকি লাল-সবুজের ডাগআউটে দেখা যাবে নতুন কোনো মুখ? এই অমীমাংসিত প্রশ্নটি সামনে রেখেই আজ সভায় বসেছিল বাফুফের জাতীয় দল কমিটি। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ও কোচের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভা শেষে জাতীয় দল কমিটির সদস্য ও বাফুফের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমিরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। কোচ কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ এপ্রিল। তবে ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই চলতি মেয়াদে শেষবার ডাগআউটে দাঁড়ান কাবরেরা।
পুনরায় নির্বাচিত না হলে কাবরেরার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। কাবরেরাকে রাখা বা বাদ দেওয়ার প্রশ্নে আমিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে নামছি। নতুন কোচের ইন্টারভিউ নেব। প্রয়োজনে কাবরেরাও ইন্টারভিউ দিতে পারবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি।’
বাফুফে কি তবে কাবরেরাকে নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাবু বলেন, ‘বিষয়টা তেমন নয়। তাঁর সঙ্গে আরেক মাস চুক্তি আছে। তবে আমরা আরও ভালো কিছুর চেষ্টা করছি।’
দেশের ফুটবল মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময়ের কোচ তিনি। দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাস মেয়াদে দলের খেলার ধরনে উন্নতি এলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শমিতদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে।
সাক্ষাৎকার দিলে কাবরেরা কি বাড়তি সুবিধা পাবেন? এমন প্রশ্নের বিপরীতে বাবু বলেন, ‘আজ সভায় জাতীয় দল কমিটির সবাই ছিলেন। সর্বসম্মতিতে ঠিক হয়েছে আজ থেকেই আমরা কোচের সিভি নেব। ভালো কোচ পেলে তাকেই আমরা নেব। যেহেতু কাবরেরার মেয়াদ এখনো আছে, তাই তার ব্যাপারে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলব না।’
জাতীয় দল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একজন নতুন গোলরক্ষক কোচও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কাবরেরার ওপর বাফুফে খুশি কি না, এমন প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে বাবু জানান, ‘তিনি আবেদন করলে আগের কিছু বিবেচনা করা হবে না। নতুন করে আবেদন করতে হবে।’ উল্লেখ্য, ছুটিতে স্পেন যাওয়ার আগেই কাবরেরা আরও এক মেয়াদে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে গেছেন।
এদিকে, জাতীয় দল কমিটি আগামী ১-৯ জুন ফিফা উইন্ডো নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই উইন্ডোতে ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-২৩ দল গঠনের কাজও শুরু হবে এখন থেকে।