জিদানকে কোচ হিসেবে পেয়ে এমবাপ্পের সিনেমার মতো লাগছে

প্রথমবার যখন কিংবদন্তিকে সরাসরি দেখেছিলেন, কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স মাত্র ১৩ কি ১৪। এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যে মানুষটা, তিনি জিনেদিন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ট্রায়াল দিতে যাওয়া কিশোর এমবাপ্পে সেদিন রোমাঞ্চে থমকে গিয়েছিলেন।

দেড় দশক পরের দৃশ্যপট? সেই কিশোর এখন বিশ্ব ফুটবলের বড় নক্ষত্র, আর সেই কিংবদন্তি বসেছেন তাঁর জাতীয় দলের শীর্ষ আসনে। কিলিয়ান এমবাপ্পে তাই আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না একেবারেই, ‘পুরো ব্যাপারটা সিনেমার গল্পের মতো লাগছে। সত্যি অবিশ্বাস্য, কিন্তু এটাই বাস্তব।’

দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ এক অধ্যায় শেষ হয়েছে জুলাইয়ের ফুটবল বিশ্বকাপে। স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে অসহায় আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশম-অধ্যায়। এরপর ফ্রান্স কোচের সেই রাজমুকুট উঠেছে জিদানের মাথায়। ইজমিতে তুরস্কের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়েই নতুন গল্প লিখতে নামছেন জিদান। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন এই যাত্রায় আগামী দুই বছরের নিশানা স্থির—ইউরো ২০২৮। মাঝখানে নেশনস লিগের চার ম্যাচ, যেখানে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও ইতালি।

ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদান

স্মৃতি আর বর্তমানকে একই বিন্দুতে মিলিয়ে এমবাপ্পে বললেন, ‘ফ্রান্সের হয়ে আমরা একটা নতুন সফর শুরু করতে যাচ্ছি। নতুন কোচের হাত ধরে একেবারেই নতুন এক যুগ। সামনে চারটা নেশনস লিগের ম্যাচ, দেখা যাক কেমন হয়। অনুভূতিটা সবার জন্যই নতুন, কারণ এত দিন তো আমরা শুধু দেশমকেই দেখে অভ্যস্ত ছিলাম। পরিবর্তনটা বড়, তবে আমার বিশ্বাস সব ভালোই হবে।’

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মৌসুমটা এমবাপ্পে শুরু করেছিলেন উড়ন্ত গতিতে, আট ম্যাচে আট গোল। তবে রোববারের মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হার সেই ছন্দে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে। ক্লাবে টানা দুই মৌসুম কোনো বড় শিরোপা না পাওয়ার খরা কাটাতে বার্নাব্যুতে ফিরেছেন জোসে মরিনিও। অথচ লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চেয়ে ইতিমধ্যেই ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে মাদ্রিদ।

ফ্রান্স তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে

চারপাশ থেকে যতই সমালোচনার তির ছুটে আসুক, এমবাপ্পের নজর মাঠেই, ‘বাইরের মানুষ যা ইচ্ছা বলতে পারে। আমাদের কাজ হলো হাত গুটিয়ে না বসে মাঠে আরও পরিশ্রম করা। মাদ্রিদে রোমাঞ্চ আর ট্রফি—দুটোই ফিরিয়ে আনতে হবে।’

আতলেতিকোর কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে তোপ দেগেছিলেন মরিনিও। তবে মরিনিওর সেই আগুনে ঘি ঢালতে নারাজ এমবাপ্পে। চেনা শান্ত গলার উত্তর, ‘আমার যা মনে হওয়ার, মনেই আছে। আমি কখনোই মাঠে বা বাইরে ও রকম প্লেয়ার ছিলাম না, এখনো হব না। রেফারিও তো একজন মানুষ, ভুল তারও হয়। ভুল কিছু হয়েছেও, তবে ওসব নিয়ে আমি কাদা ছুড়তে রাজি নই।’