ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে তর্কাতর্কির সময়ে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি
ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে তর্কাতর্কির সময়ে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি

ভিনিসিয়ুসকে গালি দিয়ে ৬ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ আর্জেন্টাইন উইঙ্গার প্রেসতিয়ান্নি

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে লক্ষ্য করে সমকামিতাবিরোধী মন্তব্য করায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উয়েফা। এর মধ্যে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসতিয়ান্নির কাটানো এক ম্যাচের সাময়িক স্থগিতাদেশও অন্তর্ভুক্ত আছে। ফলে স্থগিত থাকা ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যদি কোনো কারণে কার্যকর না হয়, তাহলে প্রকৃতপক্ষে আর মাত্র ২ ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।

লিসবনে হওয়া সেই ম্যাচে গোল করার পর অতিরিক্ত উদ্‌যাপনের জন্য ভিনিসিয়ুস হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর প্রেসতিয়ান্নির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে ভিনি সরাসরি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারের কাছে অভিযোগ জানান।

রেফারি তখন ২০২৪ সালের মে মাসে ফিফা প্রবর্তিত দুই হাত আড়াআড়ি করার সংকেত (ক্রসড আর্ম জেস্চার) ব্যবহার করে বর্ণবাদী আচরণের সংকেত দেন। এতে খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ ছিল। রিয়ালের খেলোয়াড়েরা মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

ম্যাচের পর কিলিয়ান এমবাপ্পে সংবাদমাধ্যমে জানান, প্রেসতিয়ান্নি অন্তত পাঁচবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে ডেকেছেন। অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির দাবি, প্রেসতিয়ান্নি নিজেই তাঁর কাছে সমকামভীতিমূলক গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস

এ ঘটনার পর বেনফিকা ফরোয়ার্ডকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের (দ্বিতীয় লেগ) জন্য নিষিদ্ধ করে উয়েফা। এরপর সংস্থাটির এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটি তদন্ত করে জানায়, প্রেসতিয়ান্নির মন্তব্য যতটা না বর্ণবাদী, তার চেয়ে বেশি সমকামিতাবিরোধী। যার শাস্তি হিসেবে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার রায় দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ইতিমধ্যে ফিফাকে অনুরোধ করেছে যেন এই নিষেধাজ্ঞা সর্বত্র কার্যকর করা হয়। প্রেসতিয়ান্নি যদি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক না পান এবং বেনফিকাতেই থেকে যান, তবে তাঁকে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপা লিগের বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলা এই উইঙ্গারের বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা এমনিতে কম।

এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, তর্কবিতর্কের সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বললে খেলোয়াড়দের সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত। ফুটবলের নিয়ম নির্ধারক সংস্থা ইফাব ইতিমধ্যে খেলোয়াড়দের এ ধরনের আচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল ফিফা কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।