
সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয় গত জুনে। সংস্কারকাজ শেষে ভুটান ম্যাচ দিয়ে আবার ফুটবল গড়ায় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে, খাঁ খাঁ করতে থাকা গ্যালারিতে ফেরে প্রাণ। কিন্তু আট ম্যাচেই যেন হাঁপিয়ে উঠেছে ‘হোম অব ফুটবল’!
সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন ঘাস লাগানো হয়েছিল জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে। কিন্তু ১০ লাখ টাকা খরচ করে লাগানো ঘাস মাত্র ১০ মাস আর আট ম্যাচ পরই উপড়ে ফেলতে হচ্ছে, বাড়তি ব্যয়ে লাগাতে হচ্ছে নতুন ঘাস। জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় ঘাস নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও।
বাফুফের দাবি, ভুলটা করেছিল ঘাস লাগানোর কাজ করা প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে পুরো মাঠে একই ধরনের ঘাস না লাগিয়ে লাগানো হয় হরেক জাতের ঘাস। কোথাও শক্ত শিকড়ের ঘাস, কোথাও নরম শিকড়ের ঘাস। একই মাঠে নানা জাতের ঘাসই নাকি মাঠটাকে খেলার অনুপযোগী করে তুলেছিল।
অন্য একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, ঘাস লাগানোর সময় কাজে কয়েকবার বিরতি পড়ে। কিছু ঘাস আগে, কিছু ঘাস পরে লাগানো হয়। ঘাস লাগানোর সময় এবং ঘাস লাগানোর পর পরিচর্যার কাজটাও ঠিকভাবে হয়নি। এসব কারণেও মাঠে বাজে ঘাসের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এখন সেই বাজে ঘাস বাছতে গিয়ে উজাড় করে ফেলতে হচ্ছে মাঠই, লাগাতে হচ্ছে নতুন ঘাস।
২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মাঠ সংস্কারের বিশাল কর্মযজ্ঞে সরকারের খরচ হয় ১৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু উদাসীনতা ছিল ঘাস লাগানোতে। দায়টা বাফুফেকেই নিতে হবে কারণ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) খরচে ঘাস লাগানোর কাজটা করেছিল তারা।
বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে মাঠ দেখভালের কাজও করছেন। কাল প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘যারা কাজটা করেছিল, তারা কয়েক রকমের ঘাস রোপণ করে। সে কারণেই সমস্যা হয়েছে।’ নতুন ঘাস লাগানোর বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘এবার শুধু বারমুডা ঘাস লাগানো হবে। আমরা যাদের কাজটা দিয়েছি, তাদের বলেছি বিদেশ থেকে এই ঘাস আনতে। তারপরও আমরা ঘাসের মান ভালোভাবে যাচাই করব।’ বাফুফে নতুন করে ঘাস লাগানোর কাজ দিয়েছে মেটাফোর স্পোর্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে।
সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, এর আগেও মাঠে বারমুডা ঘাসই লাগানোর কথা ছিল। তখন কাজ দেওয়া হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ অ্যান্ড সন্সকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী গোলাম রসূল অবশ্য দায় চাপালেন বাফুফের ওপর। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘শরীফ অ্যান্ড সন্স প্রথমে ঘাস লাগালেও সেটা পছন্দ হয়নি বাফুফের। বাফুফে তখন অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ঠিক করে দেয়, তাঁরাই মূলত ঘাস লাগানোর কাজ করেছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি।’
গোলাম রসূলের পরের কথাটির যুক্তি আছে। তিনি বলেন, ‘বাফুফে সবকিছু দেখেই মাঠ বুঝে নেয়। কাজ ভালো না হলে তো পরে তারা বড় বড় ম্যাচ আয়োজন করতে পারত না!’ তবে গোলাম গাউস অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত করতে বলার কথা অস্বীকার করেছেন।
গত পরশু স্টেডিয়ামে নতুন ঘাস রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে পারে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। ঘাস লাগানোর পাশাপাশি আরও কিছু খুঁটিনাটি কাজও করবে বাফুফে। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ঘাস লাগাতে কত ব্যয় হবে, তা অবশ্য জানাতে পারেননি মাঠ দেখভালের দায়িত্বে থাকা গোলাম গাউস।
সেটা যা–ই হোক, ৬২ লাখের পুরোটা বাফুফেকেই বহন করতে হবে। মাঠ এনএসসির হলেও পরিচর্যার কাজ বাফুফে করবে—এনএসসির সঙ্গে তাদের মাঠ ব্যবহার চুক্তির অন্যতম শর্তই এটা।