
২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। কাতারের সেই রাতে টাইব্রেকারে জিতে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত ফাইনালটা নিজের করে নিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও তুমুল উত্তেজনার সেই ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও ট্রফিটা হাতে নিতে পারেননি ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার।
এবারের বিশ্বকাপের যে নকআউট কাঠামো, তাতে কেউ পা পিছলে না পড়লে আবারও ফাইনালে দেখা হতে পারে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্সের। তেমন কিছু হলে ফ্রান্সের সমর্থকেরা যে বাড়তি উত্তেজনা বোধ করবেন, সে তো জানা কথাই। এমবাপ্পেও কি ‘প্রতিশোধের নেশায়’ থাকবেন?
টুর্নামেন্টের সম্প্রচারকারী ফরাসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এম৬–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে অবশ্য নিরুত্তাপই থাকতে চাইলেন। প্রতিশোধের প্রসঙ্গ সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘না, এটি প্রতিশোধের ব্যাপার নয়। আমরা বিশ্বকাপ জিতলেও টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন হব না, অতীত বদলানো সম্ভব নয়। তারা আমাদের হারিয়েছিল, আর সেটা তাদের প্রাপ্যই ছিল।’
দুই দলই ড্রয়ের সময় পট–১ এ থাকায় গ্রুপ পর্বে একসঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা ছিল না। এরপর ড্র নামের লটারিও দুই দলকে এমন গ্রুপে ফেলেছে যে ফাইনালের আগে দুই দলের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা যেহেতু টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট, এবারও ফাইনালে মুখোমুখি লড়াই দেখার আশা দর্শক করতেই পারেন।
সেটি হলে কতটা রোমাঞ্চিত হবেন প্রশ্নে এমবাপ্পের নিরুত্তাপ জবাব, ‘আবার মুখোমুখি হলে আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু তাদের নিয়ে আমাদের কোনো বাড়তি ভাবনা নেই।’
গতবার ফাইনালে তিনটিসহ মোট ৮ গোল করেও এমবাপ্পে ছিলেন রানার্সআপ দলে। এবার যদি একটিও গোল না পান, কিন্তু ফ্রান্স বিশ্বকাপ জেতে? ‘এক মুহূর্তও ভাবব না। এখনই লিখে দিতে পারি। আমি গোল না করলে যদি দল বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে ট্রফি নিয়ে উদ্যাপনের মিছিলে আমি সবার সামনে থাকব।’
‘আই’ গ্রুপে থাকা ফ্রান্স এবারের আসরে প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে। একই গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক।