
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচের যোগ করা সময়ের খেলা চলছিল। নিসের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা পিএসজি তখন জয়ের অপেক্ষায়। তৃতীয় গোলের প্রচেষ্টায় আশরাফ হাকিমি বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষ রক্ষণে। এগিয়ে এসে হাকিমিকে রুখে দেন নিসের গোলরক্ষক কাসপার স্মাইকেল। দ্রুত ছুটে এসে বলটিকে ফাঁকা জায়গায় থাকা এমবাপ্পের কাছে পাঠিয়ে দেন মেসি।
গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় পোস্ট একরকম ফাঁকাই পড়ে ছিল। কিন্তু সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন পিএসজি তারকা। এই মিসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এমবাপ্পে। কেউ কেউ এটিকে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স বলেও মন্তব্য করেছেন।
এমবাপ্পে অবশ্য কয় দিন ধরে বেশ আলোচনায় আছেন। পিএসজির প্রচারণামূলক এক ভিডিওতে অনুমতি না নিয়ে তাঁর বক্তব্য ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এই ফরাসি তারকা। এমনকি ক্লাবের নাম নিয়েও কটাক্ষ করেন এমবাপ্পে। এ ঘটনার পর অনেকে এমবাপ্পের সমালোচনা করেছেন। সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা ক্রিস্তোফ দুগারি পিএসজির সবকিছুতে নাক না গলানোর পরামর্শও দিয়েছেন তাঁকে।
গতকাল রাতের পারফরম্যান্সের পর এমবাপ্পের সমালোচকদের সুযোগ এখন আরও বেড়েছে। এই ম্যাচে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। এমনকি পুরো ম্যাচে এমবাপ্পে বলের দখল হারিয়েছেন ১৬ বার। তবে সব ছাপিয়ে গেছে মেসির পাসে ফাঁকা পোস্টে গোল করতে না পারার বিষয়টি। শেষ মুহূর্তে করা এই মিস নিয়ে বেশ কটাক্ষ সহ্য করতে হচ্ছে এমবাপ্পেকে।
এমবাপ্পের এমন পারফরম্যান্স দেখে টুইটারে এক সমর্থক বিরক্ত হয়ে লিখেছেন, ‘এই ম্যাচে এমবাপ্পে সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে খেলাটা খেলল।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মেসি নিজেই গোলটা দিতে পারত। কিন্তু বলটি সে এমবাপ্পেকে পাস দেয়, যে কিনা সেটিকে মঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়েছে।’
রাফায়েল হার্নান্দেজ নামের অন্য একজন লিখেছেন, ‘এমবাপ্পে মেসির পাসে এ মৌসুমে যতগুলো গোল করেছে, তার চেয়ে বেশি গোল সে মিস করেছে।’ মেসির এক আর্জেন্টাইন ভক্ত লিখেছেন, ‘এই পারফরম্যান্স যদি মেসি করত, তাহলে আজ তাকে ধুয়ে ফেলা হতো। সবাই এমন ভাব করছে, যেন এমবাপ্পে এ ম্যাচে খেলেইনি।’