
বিশ্বকাপের প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী একটি দেশ যুদ্ধে লিপ্ত। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে এমনটাই ঘটতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্ষেত্রে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি চললেও বিচ্ছিন্ন হামলা থেমে নেই। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও পাননি ইরানের ফুটবলাররা। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানের ফুটবলাররা?
গত ১৮ মে থেকে ইরানের ফুটবল দল তুরস্কে অবস্থান করছে। সেখানেই চলছে দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। বুধবার সেখান থেকে বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে কথা বলেন বিশ্বকাপ দলের দুই খেলোয়াড়। ২৯ বছর বয়সী সাঈদ এজাতোল্লাহি জানান, তাদের দেশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধরত, তখন অন্য একটি দেশে বসে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়াটা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং, ‘সত্যি বলতে, এটা মোটেও সহজ নয়।’
একদিকে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আর দেশের মানুষের জানমাল নিয়ে দুশ্চিন্তা, আরেক দিকে বিশ্বকাপে খেলা হবে কি হবে না অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়া যে কতটা কঠিন, সেটিই ফুটে উঠল ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা এই মিডফিল্ডারের কণ্ঠে, ‘সময়টা আমাদের জন্য কঠিন, কারণ একই সঙ্গে আমরা আমাদের দেশের খবর ও রাজনৈতিক খবরাখবরের দিকেও নজর রাখছি। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়গুলো খেলোয়াড় এবং সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।’
তুরস্কে ইরানের ফুটবল দল ক্যাম্প করেছে আন্তালিয়ায়। দলের কয়েকজন সদস্য আঙ্কারায় গিয়ে মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদন জমা দিয়ে এসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন ভিসা তাঁরা পাননি। গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে। সেই সূত্রে বেজক্যাম্পও সে দেশেই ঠিক করে রেখেছিল ফিফা। তবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধে পরে তা বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় করা হয়েছে। এরই মধ্যে আঙ্কারার মেক্সিকান দূতাবাস থেকে ভিসাও পেয়েছেন। আগামী রোববার দলটির মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ইরানির বসবাস, যাঁদের অনেকেই বর্তমান সরকারের বিরোধী। এজাতোল্লাহি বলেন, ‘আশা করছি, স্টেডিয়ামে আমাদের ম্যাচের সময় প্রচুর সমর্থক থাকবেন। এতে আমাদের ওপর চাপও থাকবে। কারণ, সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে। আশা করি, আমরা তাদের গর্বিত করতে পারব। তাদের দেখাতে পারব যে ইরানিরা পৃথিবীর যেকোনো কঠিন কাজের জন্যই প্রস্তুত।’
এপির সঙ্গে কথা বলেছেন ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ঘোরবানিও। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ওয়াহদায় খেলা এই ফুটবলার বলেন, ‘এটা সত্য যে আমরা এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে আছে। তবে আমরা যেহেতু খেলোয়াড়, আমাদের খেলতে হবে, অনুশীলন করতে হবে। সামনে আমাদের খেলা আছে, তার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ঘোরবানি যুদ্ধের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ যুদ্ধের এই পুরোটা সময় অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা সেখানে যাচ্ছি তাদের জন্য, যাতে সেরা ফল এনে আমাদের দেশের মানুষের মুখে ও মনে কিছুটা আনন্দ দিতে পারি।’
বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। পরের দুটি ম্যাচের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম (২১ জুন) ও মিসর (২৬ জুন)।