লিওনেল মেসির কলকাতা সফর আবার আলোচনায়। এবার অবশ্য ভিন্নভাবে। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ভারত সফর স্মরণীয় করে রাখতে গত বছর কলকাতায় তাঁর একটি বিশালাকার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। সেটি এবার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কলকাতার লেকটাউনের একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপিত মেসির ভাস্কর্যটি তীব্র বাতাসের সময় বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কায় তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এক বিধায়ক।
২১ মিটার (৭০ ফুট) উঁচু এই সোনালি রঙের ভাস্কর্যটি অবিকৃতভাবে নামিয়ে আনার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি—এমন একটি অবয়ব নিয়ে গত ডিসেম্বরের ‘গোট ট্যুর’–এর সময় ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধায়ক শরদ্বত মুখোপাধ্যায় এএফপিকে জানিয়েছেন, এটি আর নিরাপদ নয়।
বিধায়ক বলেন, ‘কলকাতা শহরে বসানো আর্জেন্টিনার এই ফুটবল কিংবদন্তির ভাস্কর্যটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকৌশলীরা। আমরা লক্ষ করেছি, ভাস্কর্যটি বাতাসে দুলছে।’
তবে ভাস্কর্যটি ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিধায়ক শরদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বলার চেয়ে কাজটি করা অনেক বেশি কঠিন। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছি।’ ভাস্কর্যটি অন্য কোনো স্থানে আবার স্থাপন করা হবে কি না, তা তিনি জানাননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ এক প্রতিবেদনে লিখেছে, কলকাতার গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই ভাস্কর্য নামাতে একাধিক বিশাল ক্রেনের দরকার হবে। সেগুলো রেখে কাজ করতে গেলে লেকটাউনের মতো ব্যস্ত জায়গায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। বন্ধ করতে হবে বিদ্যুৎ–সংযোগও। এই ভাস্কর্যের পাশেই রয়েছে সাবওয়ে। তার ওপরে এত ভারী ক্রেন রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এখন ভাস্কর্যের সামনের অংশ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই ভাস্কর্যের অংশের সামনে থাকা বেঞ্চে এত দিন লোকজন বসতেন, সেখানেও এখন কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। পার্কের অংশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। দুর্ঘটনা এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ভারত সফরে যান মেসি। সেদিন কলকাতার সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে স্টেডিয়ামে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার মধ্যে মেসিকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাজার হাজার দর্শক চড়া দামে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখার সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গ্যালারির চেয়ার ও টানেলের ছাউনি ভাঙচুর এবং স্টেডিয়ামের কার্পেটসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে স্টেডিয়ামের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে ক্ষুব্ধ দর্শকের।
এ ঘটনার জেরে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এখন মেসির ভাস্কর্যটিও সরে যাচ্ছে সড়ক থেকে।