
বৈশ্বিকভাবে ছেলেদের ফুটবলে গত বছর দলবদলে রেকর্ড ১৩০৮ কোটি ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা) খরচ করেছে ক্লাবগুলো। এবারই প্রথমবারের মতো দলবদল ফি হিসেবে ক্লাবগুলোর খরচ ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল প্রকাশিত ফিফার বৈশ্বিক দলবদল প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ফিফা এই প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, গত বছর ৮৬,১৫৮টি আন্তর্জাতিক দলবদল সম্পন্ন হয়েছে। এক বছরে এত বেশিসংখ্যক দলবদল এর আগে কখনো দেখা যায়নি। অর্থাৎ দলবদলের এই সংখ্যাটাও নতুন রেকর্ড।
মেয়েদের ফুটবলে গত বছর ২৪৪০টি দলবদল সম্পন্ন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৩ শতাংশ বেশি। গত বছর এই খাতে মোট ব্যয় ২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩৪৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা), যা বছরওয়ারি হিসাবে ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ছেলে ও মেয়েদের ফুটবল মিলিয়ে (পেশাদার ও অপেশাদার) গত বছর দলবদলে মোট ব্যয় ১৩১১ কোটি ডলার (প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা)। ২০২৪ সালের তুলনায় খরচের এই অঙ্ক ৫০ শতাংশের বেশি এবং ২০২৩ সালে গড়া রেকর্ডের চেয়ে ৩৫.৬ শতাংশ বেশি।
ছেলেদের পেশাদার ফুটবলে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো গত বছর আবারও খরচে সবার ওপরে এবং আয়েও শীর্ষে। গত বছর তারা নতুন খেলোয়াড় কিনতে ৩৮২ কোটি ডলার খরচ করেছে এবং খেলোয়াড় বিক্রি করে পেয়েছে ১৭৭ কোটি ডলার। ইংল্যান্ডের বাইরে শুধু ইতালিয়ান ও জার্মান ফুটবলেই ক্লাবগুলোর খরচ ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
দলবদলসংখ্যায় শীর্ষে ব্রাজিলের ক্লাবগুলো। গত বছর দেশটির পেশাদার ফুটবল লিগে যোগ দেন ১১৯০ জন খেলোয়াড়। বিক্রি করা হয় ১০০৫ জন খেলোয়াড়। তবে বৈশ্বিকভাবে ফরাসি খেলোয়াড়দের পেছনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে ক্লাবগুলো—১৬৭ কোটি ডলার (প্রায় ২০ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা)। ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা এই তালিকায় দ্বিতীয়। তাঁদের জন্য ক্লাবগুলোর খরচ ১২১ কোটি ডলার (প্রায় ১৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা)।
সবচেয়ে বেশি খরচ করা তিনটি ক্লাবই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের—ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও চেলসি। পিএসজির কাছ থেকে শীর্ষস্থান দখল নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। বর্তমানের ইউরোসেরা পিএসজি তালিকার শীর্ষ বিশেও নেই। এই তালিকার শীর্ষ বিশে ১১টি ক্লাবই ইংল্যান্ডের।