
বোর্নমাউথের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচে গোল পাননি। গতকাল রাতে সিটির পরের ম্যাচেই লোকসানটা পুষিয়ে নিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে সিটির ৪-১ গোলের জয়ে করেছেন জোড়া গোল।
সেলহার্স্ট পার্কের ক্লাবটি হলান্ডের প্রিয় প্রতিপক্ষ। লিগে এ নিয়ে ছয়বার ক্রিস্টালের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই গোল আদায় করেছেন সিটি স্ট্রাইকার। দলটির বিপক্ষে ১০ গোল করার পথে হলান্ড নাম লেখান লিগের রেকর্ড বইয়েও। রাহিম স্টার্লিং ও মোহাম্মদ সালাহর পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ৬ ম্যাচেই গোল করলেন হলান্ড।
তবে সিটির এই জয়ে আরও একজনের অবদানের কথা না বললে অন্যায় হয়। ৫৪ ও ৫৯ মিনিটে গোল করা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রায়ান শেরকি দুর্দান্ত খেলেছেন। সিটির প্রথম ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি। বেঞ্চ থেকে নেমে ২টি গোল করে মূল একাদশে ফেরার পথ ঠিকই তৈরি করে নেন শেরকি।
সেলহার্স্ট পার্কে সেই ফেরায় জোড়া গোল পাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে সিটি কোচ এনজো মারেসকা বলেন, ‘বল পায়ে না থাকা অবস্থায় তার পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য। শুধু ২টি গোল নয়, বল পায়ে সে যা করেছে, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে প্রেস করে বল পায়ে এবং বল ছাড়া আমাদের পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে।’
শেরকি তাঁর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমার পারফরম্যান্স মোটামুটি। প্রথমার্ধে আমরা জায়গা পাইনি। আমি বাজে খেলেছি। আমি খেলতে চাই, গোল করতে চাই—বিষয়টি তাদের (সিটি) দেখাতে হবে।’
এই ম্যাচে ক্রিস্টাল গোল করতে না পারলেও স্কোরশিটে তাদের নামের পাশে ১টি গোল যোগ হওয়ার কারণ জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কোস্তাল পান্তিলিমনের পর সিটির প্রথম গোলকিপার হিসেবে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন দোন্নারুম্মা। প্রথম দুই ম্যাচই জিতে মোট ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে সিটি।
৫ গোলে বুন্দেসলিগায় নতুন মৌসুম শুরু করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। গতকাল রাতে ঘরের মাঠে স্টুটগার্টের বিপক্ষে তাদের জয়ের ব্যবধান ৫-১। গোল পেয়েছেন দায়োত উপামেকানো, মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াজরা। ২টি গোল বানান বুন্দেসলিগায় অভিষিক্ত বায়ার্নের মরোক্কান মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি। ইংল্যান্ডে সিটি-ক্রিস্টাল ম্যাচের মতো জার্মানিতে এই ম্যাচেও আত্মঘাতী গোল দেখা গেছে। স্টুর্টগার্টের ডিফেন্ডার ইয়োশা ভ্যাগনোমান তাঁর দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর আত্মঘাতী গোল করেন।
বায়ার্নের হয়ে এটা ছিল তাদের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের ৬০০তম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। জয়ের পর নয়্যার বলেন, ‘এভাবে মৌসুম শুরু করতে পারাটা স্বপ্নের মতো। আমরা এই ফলই চেয়েছিলাম।’ এ নিয়ে টানা ১৫ বছর বুন্দেসলিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত রইল বায়ার্ন।
২১ ও ৮৪ মিনিটে ২ গোল হজম করে লিঁলের বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল পিএসজি। যোগ করা সময়ে ভিতিনিয়া (৯০+১) ও মারকিনিওসের (৯০+৫) গোলে শেষ পর্যন্ত ২–২ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগ করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
এ নিয়ে লিগ আঁতে টানা দুই ম্যাচেই পিছিয়ে পড়া থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করল লুইস এনরিকের দল। ম্যাচ শেষে পিএসজির ডিফেন্ডার মারকিনিওস বলেন, ‘পিএসজির বিপক্ষে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়। ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের মানসিকতা ও ঘুরে দাঁড়ানো।’