বাংলাদেশের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিন
বাংলাদেশের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিন

গোল্ডেন বুট জিতবেন এমবাপ্পে, নয়তো ...

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা, আর সেই মহোৎসব এখন আমাদের দোরগোড়ায়। সত্যি বলতে তর আর সইছে না। একজন ফুটবলার, ফুটবলপ্রেমী এবং মাঠের মানুষ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বুট’ নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা আর বিশ্লেষণ রয়েছে।

‘গোল্ডেন বুট’ নিয়ে ফুটবল–বিশ্বে যে আলোচনা চলছে, সেখানে আমার পছন্দের তালিকায় কিছু নাম ওপরের দিকেই থাকবে।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আমার প্রথম পছন্দ অবশ্যই ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এমবাপ্পে নিজেকে মেলে ধরেছেন দারুণভাবে।

মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন, যা তাঁর বর্তমান ফর্মেরই প্রমাণ দেয়। দুর্দান্ত গতি, ফিজিক্যাল ফুটবল ও গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা এমবাপ্পেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রাখে।

বিশ্বকাপে এমবাপ্পে এরই মধ্যে কী করেছেন, তা নতুন করে না বললেও চলে। মাঝমাঠ থেকে তাঁর ক্ষিপ্রগতির দৌড়, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করার ক্ষমতা কারও অজানা নয়। এমবাপ্পে যদি কোনো কারণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে লিওনেস মেসি বা নেইমার এই দৌড়ে বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে

মেসি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বাঁ পায়ের জাদু তিনি বিশ্বকাপে একাধিকবার দেখিয়েছেন, যা দেখে মোহিত হয়েছে গোটা বিশ্ব। এই লেখা যখন লিখছি, সে সময় পর্যন্ত মেসিদের মৌসুম চলছিল, যেখানে তিনি ১৬ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা এতটুকু কমেনি।

মেসির গোল্ডেন বুট বা গোল্ডেন বলের স্বপ্ন পূরণে আমি মনেপ্রাণে চাই আর্জেন্টিনা অন্তত সেমিফাইনাল এবং আরেকটু এগিয়ে ফাইনালেও খেলুক। আর্জেন্টিনা যদি অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তাহলে আমার বিশ্বাস, মেসিই হবেন গোল্ডেন বলের প্রধান দাবিদার, ঘরে তুলতে পারেন গোল্ডেন বুটও।

তবে মেসির জন্য কাজটা সহজ হবে না। মাঠে মেসি বল পাওয়া মাত্রই প্রতিপক্ষের দুই-তিনজন খেলোয়াড় তাঁকে ব্লক করে বা কড়া মার্কিংয়ে রাখে। অন্যদিকে ফ্রান্স দল এতটাই ‘কমপ্যাক্ট’ এবং ‘ব্যালান্সড’ যে এমবাপ্পে স্বাধীনভাবে নিজের খেলাটা খেলার সুযোগ পান। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য তাঁকে রোখা কঠিন এখন। আর সেটাই তাঁকে সেরা গোলদাতার তালিকায় এগিয়ে রাখছে।

আগামীর তারকা ও গোল্ডেন বয় তরুণ তুর্কিদের মধ্যে স্পেনের লামিনে ইয়ামালকে এগিয়ে রাখব। এটি তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ হলেও তাঁর মধ্যে বিশেষ কিছু করার সম্ভাবনা দেখছি। পাশাপাশি ফ্রান্সের একজন উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়ের দিকেও আমার নজর থাকবে, যিনি বায়ার্নে খেলেন। এবারের আসরে চমক দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।

এবারের টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে আমার কাছে ‘আগুন টিম’ মনে হচ্ছে। তাদের স্কোয়াডের গভীরতা এবং খেলার গতি সত্যিই অন্যদের জন্য ভয়ের কারণ। যদিও আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং চাই ট্রফিটা ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরাই ধরে রাখুক। তবে আর্জেন্টিনা বাদে যদি অন্য কারও কথা বলতে হয়, তাহলে আমি চাইব ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা নেইমার ট্রফিটা জিতুক।

এটিই রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার কথা

৪১ বছর বয়সে রোনালদোর এটিই শেষ বিশ্বকাপ, মেসিও শুনছেন শেষের বাঁশি। শেষ হওয়া মৌসুমে ৩৭ ম্যাচে ৩০ গোল করেছেন। অবিশ্বাস্য লাগে, গোলের পর গোল করেই যাচ্ছেন! গত বিশ্বকাপটা জিতেছেন মেসি, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে তাঁর ঝুলিতে আরেকটি বিশ্বকাপের মতো বিশাল প্রাপ্তি থাকুক—একজন ফুটবল–ভক্ত হিসেবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু দেখতে পছন্দ করি। যাঁরা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছেন, তাঁদের জন্য গোল্ডেন বুট বা বিশ্বকাপের ট্রফি যেমন বড় একটি রেকর্ডের বিষয়, তেমনি তরুণদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুপ্রেরণা। সব মিলিয়ে আমার মনে হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে প্রচুর গোল হবে আর রোমাঞ্চে ভরপুর একটি টুর্নামেন্ট দেখব আমরা।

নেইমার

নেইমারের কথা একটু আলাদাভাবে না বললেই নয়। চোটাঘাতে জর্জরিত অবস্থা থেকে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে সান্তোস ফরোয়ার্ড সুযোগ পাওয়ায় খুশি হয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তিনি কতটা ফিট থাকেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। বিদায়ী মৌসুমে গোটা পনেরো ম্যাচ খেলে তাঁর গোলের সংখ্যা ৬টি। শতভাগ ফিট থাকলে হয়তো আরও গোল পেতেন। তবে আশা করব বিশ্বকাপে ফিট থাকবেন এবং নেইমার নিজের মতো খেলতে পারলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকবেন। তবে প্রধান শর্ত ফিট থাকতে হবে।

বল এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা। অপেক্ষা এমবাপ্পে, মেসিদের জাদু দেখার। দিন শেষে এমবাপ্পেই হয়তো সোনার বুটটা নিয়ে যাবেন। শুভকামনা তাঁদের সবার জন্য।

 অনুলিখন: মাসুদ আলম