
নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র, গ্রিসের কাছে হার। উয়েফা নেশনস লিগ ২০২৬-২৭ এর শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি জার্মানির।
একেবারেই ভালো হয়নি জার্মানির নতুন কোচ হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপের শুরুটাও । সাবেক লিভারপুল ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই কোচের ওপর চাপ বাড়ছিল বইকি। সার্বিয়ার বিপক্ষে আজ জয় না পেলে জার্মানির ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে প্রথম তিন ম্যাচের একটিতেও জিততে না পারার লজ্জার রেকর্ড হতো তাঁর। তবে সেরকম কিছু হয়নি।
উয়েফা নেশনস লিগে আজ সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল জার্মানি, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ক্লপও। মিউনিখে সাদামাটা এক সার্বিয়া দলের বিপক্ষে এই জয়ে গোল করেছেন লিভারপুলের ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও বায়ার্ন মিউনিখের টম বিশফ।
একই দিনে অন্য এক ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র করেছে নেদারল্যান্ডস।
নিজের প্রথম স্কোয়াডে ৪৪ জনের বিশাল বহর ডেকে চমকে দিয়েছিলেন ক্লপ। সর্বশেষ ম্যাচের একাদশের কাউকেই রাখেননি তিনি, মাঠে নামিয়ে দেন সম্পূর্ণ নতুন এক দল। যার মধ্যে হলো তিন নতুন মুখের অভিষেকও। বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষক জোনাস উরবিগ, ফ্রাইবুর্গের ফরোয়ার্ড ডেরি শেরহান্ট এবং ব্রেন্টফোর্ডের মিডফিল্ডার ভিটালি ইয়ানেল্ট প্রথমবারের মতো জার্মানির জার্সি গায়ে চাপান। এছাড়া ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সেল্টিকের মিকা বাওর হয়ে যান জার্মানির জার্সিতে মাঠে নামা ইতিহাসের ১০০০তম খেলোয়াড়।
গ্রিসের বিপক্ষে বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর তরুণ এই জার্মান দলটির খেলায় ছিল দারুণ গতি। প্রথমার্ধের প্রথম আধা ঘণ্টায় আলেক্সান্দার পাভলোভিচ, সের্হি গ্লাব্রি ও টম বিশফরা সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে সার্বিয়া কেবল ফিলিপ কোস্তিকের মাধ্যমে একবারই ভীতি ছড়িয়েছিল। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে জাদুকরী এক মুহূর্তে ডেডলক ভাঙেন ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস। ডি বক্সের ভেতর বেশ কজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা টম বিশফ জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
বিরতির পরও খেলার চিত্র বদলায়নি। সার্বিয়াকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে জার্মানি। জুভেন্টাসের নিক ভোলতেমাদে গোলমুখের মাত্র এক মিটার দূর থেকে বল গোলবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে ভুল শুধরে নিতে বেশি সময় নেননি ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস। অসাধারণ এক প্রথম ছোঁয়ায় ডি বক্সে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
ওদিকে আগের ম্যাচে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেওয়া গ্রিস আজ কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডসকে। প্রথমার্ধেই ফুটিস ইয়োতিনিদিস ও গিয়োর্গোস মাসুরাসুলের গোলে টানা জয়ের সুবাস পাচ্ছিল গ্রিকরা। কিন্তু ভার্জিল ফন ডাইক ও তিয়ানি রেইন্দার্সের দারুণ দুই গোলে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দুই দল। তবে সেটা হয়েছে খুব নাটকীয়ভাবে।
টুমবাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ঘড়ির কাঁটা যখন ৮৯তম মিনিটে, ঠিক তখনই রেইন্দার্সের এক টোকায় ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল নেদারল্যান্ডস।