প্রায় অসম্ভবকে কীভাবে সম্ভব করতে হয়, ২০১৬ সালে তা দেখিয়েছিলেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস। এনবিএ ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও শিরোপা জিতিয়েছিলেন তাঁর দল ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সকে।
ঠিক এক দশক পর ফুটবল মাঠে সেই একই ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক কিছু ঘটাতে চান বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। লক্ষ্য একটাই—চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে রূপকথার মতো এক প্রত্যাবর্তন।
আজ রাতে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে যখন দুই দল মুখোমুখি হবে, বার্সার কাঁধে থাকবে দুই গোলের বোঝা। গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-তে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ইতিহাস বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকোকে কখনোই হারাতে পারেনি কাতালানরা। কিন্তু ইয়ামাল যেন পণ করেছেন ইতিহাস নতুন করে লেখার।
প্রথম লেগে বার্সার সেই হারের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘মিম’ বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেব্রন জেমসের ছবির নিচে লেখা—‘এনবিএ ইতিহাসে কোনো দল ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’ সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিলেন জেমস। বার্সার ভক্তরা এখন সেই মিমটিকেই নতুন করে সাজিয়েছেন—‘চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সা কখনো আতলেতিকোকে দুই লেগে হারাতে পারেনি।’
এই মিমটি ইয়ামালকেও ছুঁয়ে গেছে। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কি জানালেন, তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামের প্রোফাইল ছবি বদলে লেব্রন জেমসের ছবি দিয়েছেন কেবল অনুপ্রেরণা পেতে। ইয়ামাল বলেন, ‘এই ম্যাচের জন্য লেব্রন আমার অন্যতম বড় প্রেরণা। সে কীভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল, আমি সেটাই ভাবছি। আশা করছি, আমাদের ক্ষেত্রেও ফলটা তেমনই হবে।’
চলতি মৌসুমে ৪৩ ম্যাচে ২২ গোল আর ১৮ অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বার্সার আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা এখন ইয়ামাল। দলের কঠিন সময়ে প্রত্যাশার পুরো চাপটাই তাঁর কাঁধে। তবে ইয়ামাল যেন বড্ড পরিণত। তাঁর কথায়, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক দায়িত্ব নিয়ে অভ্যস্ত। তাই এটাকে সমস্যা মনে হয় না, বরং গুণ মনে হয়। আমি তো আর একা নই, দলে বিশ্বসেরা অভিজ্ঞ আর তরুণ খেলোয়াড়েরা আছেন। তবে দলের প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
চলতি মৌসুমে এটি বার্সা ও আতলেতিকোর ষষ্ঠ দেখা। লা লিগার দুই ম্যাচেই বার্সা জিতলেও কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মাদ্রিদে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল তাদের। ফিরতি লেগে ৩-০ গোলে জিতেও তাই বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে ইয়ামাল মনে করেন, এবার ২-০ ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাঁর মতে, ‘আমাদের নিজেদের স্টাইল ধরে রেখে তীব্র লড়াই করতে হবে। আমরা যদি মনে করি, প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনো মিরাকল বা অলৌকিক কিছু লাগবে, তবে ভুল হবে। স্রেফ নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়তে হবে।’
বার্সেলোনা কি পারবে সেই ‘লেব্রন জেমস’ মুহূর্ত তৈরি করতে? নাকি মাদ্রিদের জমাট রক্ষণে আছড়ে পড়বে ইয়ামালদের সব স্বপ্ন?