কে হচ্ছেন হামজা–তপুদের নতুন কোচ?
কে হচ্ছেন হামজা–তপুদের নতুন কোচ?

নতুন কোচের জন্য আরেকটু অপেক্ষা, ২ বছরের চুক্তি করবে বাফুফে

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচের নাম চূড়ান্ত করার কথা ছিল আজ। দুই দিন আগে এমনটাই জানিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তবে আজ কোচ চূড়ান্ত হয়নি; আসেনি এ নিয়ে কোনো ঘোষণাও।

রাজধানীর ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্টে আজ সন্ধ্যার পর বাফুফের জাতীয় দল কমিটির সভা হয়েছে। সভায় নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জাতীয় দলের নতুন কোচ কে হচ্ছেন, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।

জানা গেছে, জাতীয় দল কমিটির সভায় ছয় জনকোচের নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা সবাই ইউরোপের। লাতিন আমেরিকার তিনজন ছিল, তবে লাতিনের কারও হচ্ছে না। বেতন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোচদের সঙ্গে এখন কথা হচ্ছে। কেউ কেউ তাঁদের সহকারীও নিয়ে আসতে চান। সহকারী আনলে কত টাকা নেবেন তাঁরা সেটা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আরও কথা বলবে বাফুফে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ৬ জনের মধ্যে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানই এগিয়ে আছেন।

আমরা ২৩০টির বেশি সিভি পেয়েছি। সেগুলো শর্ট লিস্ট করে ২৩টিতে এনেছি। সেগুলো বিশ্লেষণ করে ১১ জনকে আমরা অনলাইন সাক্ষাৎকারে ডেকেছিলাম। এই আলোচনা চলমান আছে। ১৫ মে আমরা সেটার সমাপ্তি করব।
তাবিথ আউয়াল, সভাপতি, বাফুফে

বাফুফের জাতীয় দল কমিটির প্রধান তাবিথ সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ মে নতুন কোচের নাম জানানো হবে। তবে তাবিথ আজ এটা নিশ্চিত করেছেন যে নতুন কোচের সঙ্গে চুক্তি হবে দুই বছরের। বিদায়ী কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি প্রথমে ছিল এক বছরের। এরপর সেটি এক বছর করে বেড়েছে। সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে চুক্তি ছিল ১৪ মাসের।

কাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি শেষ হয়েছে গত ৩০ এপ্রিল। সেই থেকেই নতুন কোচ নিয়োগে তোড়জোড় চলছে বাফুফেতে। আজ জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে এক প্রশ্নে তাবিথ বলেন, ‘প্রধান কোচের সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। আমরা অনেকের সঙ্গেই কথা বলছি। আগে আমরা একটি ডেডলাইন দিয়েছিলাম—১৫ তারিখ আমরা চুক্তির দিকে যাব, কার সঙ্গে আমরা চুক্তি করতে যাচ্ছি সেটা জানিয়ে দেব। আমাদের দিন–তারিখ পেছাবে না, আমরা আমাদের পরিকল্পনামতো এগোচ্ছি।’

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল

তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল টিমস কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। আমরা ২৩০টির বেশি সিভি পেয়েছি। সেগুলো শর্ট লিস্ট করে ২৩টিতে এনেছি। সেগুলো বিশ্লেষণ করে ১১ জনকে আমরা অনলাইন সাক্ষাৎকারে ডেকেছিলাম। এই আলোচনা চলমান আছে। ১৫ মে আমরা সেটার সমাপ্তি করব।’  

কে থাকছেন চূড়ান্ত তালিকায়—এমন প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি কোনো নাম বলেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলব না, এ নিয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছি না। আমরা এটুকু বলতে পারি, যাদের সঙ্গে কথা বলছি, আমরা খোলা মনে আছি। ১৫ তারিখ ডেডলাইন আছে, তার মধ্যে আমি নিশ্চিত অনেকে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সুযোগটা উন্মুক্ত রাখবে। চূড়ান্ত নাম জানতে আমি ১৫ তারিখ পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে বলছি।’

নামীদামি কোচরা পুরো কোচিং স্টাফ নিয়ে আসতে চান। কেউ তেমন প্রস্তাব করলে বাফুফে তা বিবেচনা করছে কি না, এমন প্রশ্নে তাবিথের কথা, ‘আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করছি। কেস টু কেস ভিন্ন হচ্ছে। প্রতিটি সম্ভাবনাময় কোচের চাহিদা, তাঁদের আইডিয়া বিবেচনায় রাখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামী ২ বছর বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিতে পারব, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজগুলো করছি।’

বাংলাদেশ ফুটবল দল

কোচের বেতন নিয়েও কথা বলেছেন বাফুফে সভাপতি, ‘আমাদের নিশ্চয়ই একটা বাজেট আছে। সেই বাজেটের ভেতরে সম্ভাবনাময় কোচের সঙ্গে কথা চূড়ান্ত হয়ে গেলে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেল। যদি বাজেট বাড়াতে হয়, আমরা আমাদের স্পনসরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছি; কিছু ডোনারের সঙ্গে কথা বলছি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলে রেখেছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘নতুন কোচের সঙ্গে চুক্তি হবে ২ বছরের।’