
দুই দলের আক্রমণভাগেই ছিলেন চারজন করে খেলোয়াড়। মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ড জুটিও। স্কোরলাইনে অবশ্য তার ছাপ খুব একটা বোঝা গেল না। ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রীতি ম্যাচে গোল হলো মাত্র তিনটি।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। ম্যাচের শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, তিনি অর্ধেক সন্তুষ্ট। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, ব্রাজিল আরেকটি গোল করলে আনচেলত্তি বুঝি পুরো সন্তুষ্ট হতেন! না, মানে এক গোলে যেহেতু অর্ধেক সন্তুষ্ট, দুই গোলে তাহলে পুরো আর ম্যাচটাও তাতে ড্র হতো।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেটা হয়নি—ম্যাচের প্রায় শেষ ৪০ মিনিটে ১০ জনে পরিণত হওয়া ফ্রান্সের জালে ভিনিসিয়ুসরা গোল করতে পারেননি। তাতে ম্যাচটি হেরে ফ্রান্সের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৯৫৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর জয়বঞ্চিত থাকার ধারাও ভাঙতে পারল না ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের এমন পারফরম্যান্সে অবশ্যই আনচেলত্তির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ উঁকি দেবে। তবে সাংবাদিকদের সামনে সেটা তেমন একটা বুঝতে দেননি আনচেলত্তি, ‘ম্যাচ হারলে কেউই খুশি হয় না। তাই বলতে পারেন, এই ফলে আমি অর্ধেক সন্তুষ্ট। সামনে এখনো দীর্ঘ পথ, তবে ইতিবাচক থাকার মতো কারণও আছে।’
আনচেলত্তি মনে করেন, তাঁর খেলোয়াড়েরা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন। কিছু ভালো সুযোগও তৈরি করা গেছে। সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় নিজেদের অর্ধ থেকে খেলাটা তাঁর শিষ্যরা ভালোভাবে তৈরি করতে পারেননি। ফ্রান্সের প্রতি–আক্রমণ ঠেকাতেও ভুগেছেন। তবু দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করায় এ ‘অর্ধেক সন্তুষ্টি’র ম্যাচেও নিজের ইতিবাচক থাকার জায়গাগুলো দেখিয়ে দেন আনচেলত্তি, ‘আমার মনে হয় আজকের ম্যাচটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। আজকের ম্যাচে আমরা একটি শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে খেলেছি এবং জয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সবটুকু শক্তি দিয়েই আমরা বিশ্বকাপ জয়ের লড়াই করব।’
এই ম্যাচের আগে চলতি বছর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া সম্মিলিতভাবে ৩০ গোলে অবদান রাখেন। বিপরীত শিবিরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের সম্মিলিতভাবে ২২ গোলে অবদান। বলতে পারেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ড জুটির মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচ ছিল এটি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে গোল পেলেন শুধু এমবাপ্পে। ভিনি পুরো সময় খেলেও গোল পাননি। রাফিনিয়াকে চোটের কারণে তুলে নেওয়া হয় ৪৫ মিনিটে।
ব্রাজিলের এ দুই তারকার পারফরম্যান্স তেমন সন্তোষজনক ছিল না। সাংবাদিকেরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আনচেলত্তি পাত্তা দেননি, ‘আমার চোখে অপূর্ণতা বলতে কিছু নেই। রাফিনিয়া ভালো খেলেছে, কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে ওর কিছুটা সমস্যা হওয়ায় উঠিয়ে নিতে হয়েছে। সে সুযোগ তৈরি করেছে, বল ছাড়াও তার মুভমেন্ট ভালো ছিল। ভিনি সব সময়ই প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক। সে গোল না পেলেও এমন একজন স্ট্রাইকার, যেকোনো সময় গোল করতে পারে। দুজনের পারফরম্যান্সেই আমি সন্তুষ্ট।’
তবে একটি বিষয়ে আনচেলত্তি মনে মনে অসন্তুষ্ট হতে পারেন। জিলেট স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজারের বেশি দর্শকের মাঝ থেকে ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান তুলেছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা। জাতীয় দলের বাইরে থাকা কাউকে নিয়ে এত গুঞ্জন-স্লোগান কেন, সেই বিরক্তিটা পরোক্ষভাবে ধরা পড়ল আনচেলত্তির কথায়, ‘এখন আমাদের শুধু তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত, যারা দলে আছে এবং খেলছে। তাদের অর্জনে আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে নিতে হবে।’
বাংলাদেশ সময় আগামী ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে এটাই হবে ব্রাজিলের শেষ প্রীতি ম্যাচ। অন্তত এখন পর্যন্ত সূচিটা এমনই। তাই প্রস্তুতি যা সেরে নেওয়ার, এর মধ্যে সারতে হবে আনচেলত্তিকে। সে জন্যই সম্ভবত ফ্রান্সের বিপক্ষে পারফরম্যান্স নিয়ে ইতালিয়ান এই কোচ খুব একটা কাটাছেঁড়া করতে চাইলেন না।
কারণ, এই ম্যাচগুলো আসলে আনচেলত্তির জন্য বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড বেছে নেওয়ার এবং সেটা বোঝা গেল তাঁর কথাতেই, ‘নতুনদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি, তাদের উন্নতিটাও বেশ ইতিবাচক। ইগর থিয়াগো ও দানিলো দারুণ খেলেছে, গ্যাব্রিয়েল সারা আর ইবানেজও যার যার ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করেছে। আজকের এই ম্যাচের পর আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল বেছে নেওয়াটা এখন আমার জন্য বেশ কঠিনই হবে বলে মনে হচ্ছে।’