লিভারপুলকে জয় এনে দেওয়া গোলের পর অ্যালিস্টার ম্যাক অ্যালিস্টার
লিভারপুলকে জয় এনে দেওয়া গোলের পর অ্যালিস্টার ম্যাক অ্যালিস্টার

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ

হতাশা ভুলে লিভারপুলের নায়ক ম্যাক অ্যালিস্টার, ২৯ পাসের গোলে আর্সেনালের জয়

পিএসজি ও বার্সার বড় জয়ের দিনে নূন্যতম ব্যবধানে জিতেছে দুই ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ও আর্সেনাল। লিভারপুল ঘরের মাঠে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ও আর্সেনাল নেপলসে নাপোলিকে হারিয়েছে।

লিভারপুল ২–১ আতলেতিকো

নতুন চুক্তির প্রস্তাব না পাওয়ায় আগের দিনই লিভারপুলের ওপর নিজের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরের দিনই হতাশা ভুলে মাঠের পারফরম্যান্সে অবহেলার জবাব দিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে লিভারপুলের ২-১ গোলের জয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি এসেছে এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের পা থেকেই।

অ্যানফিল্ডে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। ম্যাচের এক পর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক বুলেটগতির শটে দুর্দান্ত গোলটি করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। ২০১৩ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়া এই বিশ্বজয়ী তারকা গোল করেই দৌড়ে যান ঘরের দর্শকদের সামনে উল্লাসে মেতে উঠতে। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে যে বিষণ্ণ সুর শোনা গিয়েছিল তার কণ্ঠে, এই উদযাপনের রূপ ছিল একেবারেই বিপরীত।

মঙ্গলবার ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক অ্যালিস্টার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছে ক্লাব আপাতত আমাকে নতুন চুক্তির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার অবস্থায় নেই।’

ম্যাক অ্যালিস্টারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে, তাই লিভারপুলের চুক্তি নবায়নের তাড়াহুড়ো না থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে বিরতির ঠিক ৫ মিনিট পর তার ওই গোলটি যেন ক্লাবের সামনে তার কার্যকারিতার কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিল।

লিভারপুল সমতায় ফেরে দমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল আতলেতিকোই। অ্যানফিল্ডের মাঠে ইয়োরেন্তের গোল করার ধারাবাহিকতা যেন থামছেই না। লিভারপুলের মাঠে শেষ তিন সফরে এটি তাঁর পঞ্চম গোল। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ লকডাউনের ঠিক আগে এই অ্যানফিল্ডেই জোড়া গোল করে সে সময়ের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছিলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি অলরেডরা। ৪০তম মিনিটে দমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে লিভারপুল। এরপরই আসে ম্যাক অ্যালিস্টারের সেই জয়সূচক গোল।

নাপোলি ০–১ আর্সেনাল

মার্টিন ওডেগার্ডের দুর্দান্ত ফর্ম চলছেই। নেপলসে গিয়ে দল যখন পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন আর্সেনাল অধিনায়ক। তার একক নৈপুণ্যেই নাপোলির বিপক্ষে জয় নিয়ে ফিরেছে গানাররা।

আর্সেনালের একমাত্র গোলটি অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের

তবে ফিনিশিংয়ের চরম ব্যর্থতায় ম্যাচটি  ড্রয়ের দিকেই গড়াচ্ছিল। কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গ্যালারিতে থাকা ১,৫০০ গানার সমর্থককে উল্লাসে মাতান ওডেগার্ড। কমিউনিটি শিল্ডসহ চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচে এটি আর্সেনাল অধিনায়কের চতুর্থ গোল।

গত মৌসুমে ফাইনালে ওঠার পথে গ্রুপ পর্বের আটটি ম্যাচের প্রতিটিই জিতেছিল মিকেল আর্তেতার দল। এবারও ইতালির মাটিতে এই জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করল তারা।

ওডেগার্ডের গোলের আগেই অবশ্য নাপোলিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার অন্তত তিনটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছিল গানাররা।

ওডেগার্ডের এই জয়সূচক গোলটি গড়ার নেপথ্যে ছিল টানা ২৯টি পাস, যা অন্তত ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের কোনো গোলের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাসেলের বিপক্ষে লুকাস পেরেজের গোলের আগে হয়েছিল ৩৩ পাস)।