ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছেন হামজা চৌধুরীরা
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছেন হামজা চৌধুরীরা

তাই বলে ৯ গোল খেয়ে হারবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ২ : ৯ ইন্দোনেশিয়া

একটা ম্যাচ যেকোনো দল হারতেই পারে। প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, যারা শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে—বাংলাদেশের হারটাও তাই অপ্রত্যাশিত ছিল না। তাই বলে ৯–২ গোলে! এ কেমন ফুটবল খেলল বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ দলের খারাপ খেলার উদাহরণ আগেও আছে। তবে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের ফুটবলে সচরাচর দেখা যায় না। আজ জাকার্তার গেলোরা বুং কর্নো স্টেডিয়ামে আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে যেন নিজেদের অচেনা এক রূপই দেখাল বাংলাদেশ ফুটবল দল।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ন্যূনতম লড়াইটুকুও করতে পারেনি টমাস ডুলির দল। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে একাদশ সাজিয়ে মাঠে নামলেও কোচের পরিকল্পনার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি মাঠের খেলায়। মাঝমাঠ থেকে বারবার বল হারানো, ছন্নছাড়া রক্ষণভাগ আর ইন্দোনেশিয়ার গতিময় আক্রমণের সামনে দিশাহারা হয়ে পড়ার দৃশ্যই দেখা গেছে বারবার। শেষ পর্যন্ত ৯–২ গোলের বিশাল হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে এই জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

জাকার্তায় এই হার ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশের ফুটবলের কিছু পুরোনো দুঃস্মৃতিও। ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের কাছে ৯–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড এখনো সেটিই। ৯ গোল বাংলাদেশ খেয়েছে আজও, তবে দুটি গোল দেওয়ায় ৯–০–তে হারের সংখ্যাটা আর বাড়েনি।

আজকের হারে আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের এবারের অভিযান শেষ হলো জয়শূন্যভাবে। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের গোল মাত্র দুটি, বিপরীতে হজম করতে হয়েছে ১৩টি গোল। অবশ্য তিন প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সব ম্যাচেই তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে যেভাবে পুরো দল ভেঙে পড়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।

এই টুর্নামেন্টে অবশ্য এবার বাংলাদেশের খেলারই কথা ছিল না। ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফিফার আমন্ত্রণে শেষ মুহূর্তে আসিয়ান কাপে সুযোগ পায় বাংলাদেশ দল। মূল লক্ষ্য ছিল আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়া। সেই প্রস্তুতি শেষ হলো তিন ম্যাচে তিন হার, এক ম্যাচে ৯ গোল আর সব মিলিয়ে ১৩ গোল হজমের হতাশা নিয়ে।

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম গোল করেন শাহরিয়ান ইমন (১১)

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আজ শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হয়েছে হামজা–জায়ানদের। বাংলাদেশের রক্ষণকে বারবার সামনে টেনে এনে জায়গা তৈরি করেছে ইন্দোনেশিয়া। ফাইনাল থার্ডে দ্রুত পাস, দুই উইংয়ে গতি আর মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণে উঠে যাওয়ার দক্ষতায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপর্যস্ত করে তোলে স্বাগতিকেরা।

ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি যে তাদের গতি, সেটিও আরেকবার দৃশ্যমান হয়েছে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে তছনছ করে একের পর এক গোল করেছে তারা। বাংলাদেশের ফুটবলারদের সেগুলো চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না। গতি, শক্তি এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার অভিজ্ঞতায় ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তালই মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

খেলোয়াড়দের লম্বা গড়নের কারণে সেট পিস কিংবা ওপরে ভেসে আসা বলেও বাড়তি সুবিধা পেয়েছে স্বাগতিকেরা। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মিচেল বেকার। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার ১৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার একাই ত্রাস ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের রক্ষণে। ইন্দোনেশিয়ার ৯ গোলের ৫টিই আসে তাঁর পা থেকে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে যেন বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আক্রমণে কমই উঠতে পেরেছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ অবশ্য দুটি গোল শোধ করতে পেরেছে। ৩৬তম মিনিটে শুকি ইতোফুসার ক্রস থেকে হেডে ইন্দোনেশিয়ার জালে বল পাঠান শাহরিয়ার ইমন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ফারহান আলী। রাকিব হোসেনের ক্রস পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

এরপর মাঠে কিছুটা উত্তেজনাও ছড়ায়। সাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ইন্দোনেশিয়ার ওলে রোমেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও জড়িয়ে পড়েন তাতে। পরিস্থিতি শান্ত হলে সাদ ও রোমেনিকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় ইন্দোনেশিয়ার কাছে হার হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। তাই বলে এতটা শোচনীয় অবস্থা হবে, সেটি ছিল কল্পনাতীত। তিন ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ভঙ্গুর রক্ষণভাগ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কোচ টমাস ডুলিকে নিশ্চয়ই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।