মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচই রেকর্ড গড়েছে
মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচই রেকর্ড গড়েছে

বিশ্বকাপের যে তিন ম্যাচে হয়েছে সবচেয়ে বেশি দর্শক

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের আয়োজক হলেই দর্শকের রেকর্ড যেন অবধারিত। সর্বশেষ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এমনটা দেখা গেছে। এবারও তা–ই। সর্বোচ্চ দর্শকের নতুন রেকর্ড হয়েছে।

এই আসর শেষ হওয়ার আগে হয়তো নতুন উচ্চতায় চলে যাবে। মজা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বিশ্বকাপে ভবিষ্যতে দর্শকের রেকর্ড ভাঙতে আবারও হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকেই আয়োজক হতে হবে!

সেটার কারণও আছে। এবারের কথাই ধরুন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু স্টেডিয়াম ১১টি। সব কটি স্টেডিয়ামই বেসবল, রাগবির পাশাপাশি বড় কনসার্ট মাথায় রেখে বানানো।

কোনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই ৬৪ হাজারের নিচে আসন নেই। তাতে এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে তিন–চারটি ম্যাচ হলে বিশ্বকাপে এক দিনে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড ভেঙে যাওয়াই তো স্বাভাবিক।

ফিফার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৫ জুন ভেঙে গেছে একক কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ মোট দর্শক উপস্থিতির পুরোনো রেকর্ডটি। ওই দিন পর্যন্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭ জন।

তার পর থেকে এই সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত আরও বাড়ছে। এর আগে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৮ জন দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে ৩২ বছর আগের সেই বিশ্বকাপটিও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই যুক্তরাষ্ট্রেই।

আজতেকায় সেদিন যে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না

এখন পর্যন্ত ফিফার যা হিসাব, তাতে দেখা যাচ্ছে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে মোট ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯ জন মানুষ স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন। গড়ে স্টেডিয়ামগুলোর ৯৯.৭ শতাংশ আসনই পূর্ণ ছিল দর্শকে। গ্রুপ পর্বে গড়ে প্রতি ম্যাচে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৫০৮ জন দর্শক।

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বের ২১০টি দেশ থেকে আসা সমর্থকেরা এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সরাসরি মাঠে বসে উপভোগ করেছেন। একই সঙ্গে আরও একটি রেকর্ড গড়েছে এবারের বিশ্বকাপ।

২৫ জুন বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক কোনো দিনে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড হয়েছে। ওই এক দিনেই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করেছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৪ জন দর্শক। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত আটটি ভিন্ন ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গ্রুপ পর্ব শেষে এখন চলছে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নকআউট লড়াই। আসুন জেনে নিই, গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ ছিল কোনগুলো?

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হতাশ করে এভাবেই উদযাপনে মাতে স্বাগতিক মেক্সিকো

দর্শক উপস্থিতিতে শীর্ষ তিন ম্যাচ:

দর্শক উপস্থিতির তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে তিনটি ম্যাচ। সেই তিনটি ম্যাচই আবার অনুষ্ঠিত হয়েছে একই স্টেডিয়ামে। আজতেকা! লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম।

এবার বিশ্বকাপে আসনসংখ্যার বিচারেও এটি বৃহত্তম। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা (উদ্বোধনী ম্যাচ), উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র–মেক্সিকো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামে। এই তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতে দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড ৮০ হাজার ৮২৪ জন।

এক ধাপ পেছনেই আছে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচ। ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক গ্যালারিতে বসে দেখেন এই ম্যাচ।

মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ছিল ৮০,৮২৪ জন দর্শক

সবচেয়ে কম দর্শকের ম্যাচ কোনটি

সবচেয়ে কম টিকিট বিক্রি বা দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে তালিকার তলানিতে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ঘানা ও পানামার মধ্যে ম্যাচটি। আফ্রিকান দলটির ১-০ গোলের জয়ের এই ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪২ হাজার ৯৪২ জন।

অবশ্য এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাই মাত্র ৪৩ হাজার! চলতি বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে কম দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ।