
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়ে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার দলের প্রশংসা করেছেন। চীনের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের তুলনায় বাংলাদেশের ১৯-২০ বছরের তরুণ দলের এ লড়াইকে তিনি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে খুশি। যদিও গোল ব্যবধান নিয়ে তাঁর কিছুটা অতৃপ্তি আছে। তবে সেটিকে এক পাশে সরিয়ে রেখে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন তিনি। বিশেষ করে গোলকিপার মিলি আক্তারকে পোস্টে দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। নিজেই বলেন, ‘গোলকিপার মিলিকে একাদশে দেখে অবাক হয়েছি। তবে সে-ও খুব ভালো খেলেছে।’
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে চীনের কোচ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ওপর চাপ ছিল না, তারা মুক্তভাবে খেলেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আমরা ২ গোল করেছি, কোনো গোল খাইনি; এতেই আমরা সন্তুষ্ট। প্রথম ম্যাচে এমন হতেই পারে।’
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে চীনের কোচ বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়ের স্কিল খুব ভালো।’ ম্যাচে আলাদাভাবে কাউকে চোখে পড়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৭ নম্বর (ঋতুপর্ণা চাকমা), ৬ নম্বর (মনিকা চাকমা) ও ৮ নম্বরকে (মারিয়া মান্দা) চোখে পড়েছে।’
বাংলাদেশের মেয়েরা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে গর্বিত কোচ বাটলার। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চীন এশিয়ার অন্যতম সেরা দল, সম্ভবত সেরাদের মধ্যে সেরা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তারা জিতেছে, আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’
নিজের দলের খেলোয়াড়দের প্রতি বাটলারের নির্দেশনা ছিল স্পষ্ট। তিনি চেয়েছিলেন মেয়েরা যেন মাঠে সাহসের সঙ্গে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে। সেটি তারা করতে পেরেছে। তাই বাটলারের মুখে হাসি, ‘ম্যাচের আগে আমি মেয়েদের বলেছিলাম তারা যেন তাদের সেরাটা দেয় এবং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।’
কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে গোল হজম করার লক্ষ্য ছিল না বাংলাদেশ কোচের। বাটলার যোগ করেন, ‘আমরা এখানে শুধু রক্ষণ সামলাতে আসিনি। আমি সেভাবে কোচিং করাই না এবং আমার দলও সেভাবে খেলুক, তা চাইনি।’
ম্যাচের ফল এবং পারফরম্যান্স নিয়ে বাটলারের মূল্যায়ন ইতিবাচক। প্রথম ৪০ মিনিট চীনকে আটকে রাখা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার জন্য তিনি মেয়েদের প্রশংসায় ভাসান, ‘মেয়েরা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, জার্সির মান রেখেছে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় আমরা কতটা এগিয়েছি।’
গোলকিপার রূপনা চাকমার বদলে শেষ মুহূর্তে তিনি তরুণ মিলি আক্তারকে একাদশে নেন। মিলি বেশ কয়েকটি সাহসী সেভ করেছেন। মিলিকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘মিলি আজ অসাধারণ ছিল। আমি পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলাম এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আমি ভয় পাই না। আমি খুশি যে আমরা অসম্মানিত হইনি।’
বাটলার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি শুধু একটি নির্দিষ্ট জোনে রক্ষণ সামলানোর মতো কোচ নই। আমরা উঁচু মানের ফুটবল খেলছি এবং গত দুই-আড়াই বছরে আমাদের উন্নতি হয়েছে।’
বাংলাদেশের ফুটবলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বাটলার অকপট ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের অন্যান্য দলের মতো বিলাসিতা, অর্থ বা প্রস্তুতির সুযোগ নেই। আমাদের যা আছে, তা দিয়েই সেরাটা করতে হবে।’
ম্যাচটি না জিতলেও বাটলারের কাছে এটি ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, ‘এই মেয়েদের কোচ হতে পেরে নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করছি। এই টুর্নামেন্ট মেয়েদের জন্য নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে তাদের উন্নত জীবন দিতে সাহায্য করবে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’