
হেক্টর বেলেরিনের জন্ম বাদালোনোয়। কাতালুনিয়ার বার্সেলোনা শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই অঞ্চল। স্বাভাবিকভাবেই বার্সেলোনার প্রতি তাঁর একটা টান থাকার কথা। আর সেখানকার ক্লাব বার্সেলোনাতেও খেলেছেন এক মৌসুম। গতকাল রাতে রিয়াল মাদ্রিদের জালে তাঁর গোলে বার্সার সমর্থকেরাও নিশ্চয়ই খুশি হয়েছেন? গোলটি বেলেরিনের দল রিয়াল বেতিসের যতটা কাজে লেগেছে, তার চেয়ে বেশি উপকার করেছে যে বার্সার!
শীর্ষে থাকা বার্সার সঙ্গে ৯ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে বেতিসের মাঠে নেমেছিল রিয়াল। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে এই পয়েন্ট ব্যবধানকে ছয়ে নামিয়ে আনার স্বপ্নও দেখছিল আলভারো আরবেলোয়ার দল। কিন্তু যোগ করা সময়ে (৯৪ মিনিট) বার্সার সাবেক ডিফেন্ডার বেলেরিনের গোলে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্টের বদলে মাত্র ১ পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছে রিয়াল। ১-১ গোলের ড্র হয় ম্যাচটি। অর্থাৎ ৯ পয়েন্টের যে ব্যবধান ছয়ে নামিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেছিল রিয়াল, সেটা এখন ৮ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকল।
৩২ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সা। রিয়াল ৩৩ ম্যাচে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে। আজ রাতে হেতাফের মাঠ থেকে বার্সা জয় তুলে নিতে পারলে দুই দলের মধ্যে পয়েন্ট ব্যবধান দাঁড়াবে ১১। হাতে থাকবে ৫ ম্যাচ। অর্থাৎ গতকাল রাতের ড্রয়ে রিয়াল আসলে লিগ শিরোপা এক অর্থে বার্সার হাতে তুলেই দিয়েছে। কিংবা অন্যভাবে ভাবলে, বার্সার সঙ্গে লিগ শিরোপা জয়ের দৌড় থেকে রিয়ালের দৃশ্যত ছিটকে পড়ার কারণ কাতালান ক্লাবের সাবেক ডিফেন্ডারের ওই গোল। বেলেরিনের গোলে আসলে পয়েন্ট তালিকার পাঁচে থাকা বেতিসের চেয়ে বার্সার উপকারই হয়েছে বেশি!
এমবাপ্পের গোল অফ সাইডের কারণে বাতিল না হলে অবশ্য এই ম্যাচ থেকে জয় তুলে নিতে পারত রিয়াল। এমবাপ্পে শেষ পর্যন্ত রিয়ালের অন্য এক দুশ্চিন্তার কারণও হয়ে দাঁড়ান। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন ফরাসি তারকা। ৮১ মিনিটে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমবাপ্পের চোটের ব্যাপারটি রিয়ালের এক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে প্রাথমিক ধারণা হলো, এই চোট তেমন গুরুতর নয়। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্যাপারটি ভালোভাবে বোঝা যাবে।
এমবাপ্পের চোট নিয়ে ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘ধারণা নেই (এমবাপ্পে কেমন আছে)। সে অস্বস্তি অনুভব করেছিল। দেখা যাক আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়ায়।’
বেতিসও গোলের বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু রিয়াল গোলকিপার আন্দ্রেয়া লুনিন বেশ কিছু দারুণ সেভ করেন। ম্যাচ শেষে বেলেরিন বলেন, ‘আমাদের এক পয়েন্টের বেশি প্রাপ্য ছিল...আমরা গোলে অনেক শট নিয়েছি। গোলকিপার সব সেভ করেছে।’
কিন্তু রিয়ালের মৌসুম ‘সেভ’ হলো না! এখন অনেকটাই নিশ্চিত যে এবারসহ টানা দ্বিতীয় মৌসুমে কোনো ট্রফি জেতা হচ্ছে না রিয়ালের। চলতি শতাব্দীতে এটা হবে রিয়ালের পঞ্চম ট্রফিহীন মৌসুম।
লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৪ মে, এস্পানিওলের বিপক্ষে। এরপর ১১ মে মৌসুমের দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’ লড়তে বার্সেলোনার মাঠে যাবে তারা। তবে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে রিয়ালকে শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই চলবে না। পাশাপাশি বার্সার পয়েন্ট খোয়ানোর প্রার্থনাও করতে হবে।
বেতিসের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে আমরা আবারও বড় ধাক্কা খেলাম, যা আমাদের সঙ্গে এর আগেও অনেকবার হয়েছে। জেতার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত এমন এক ফলাফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো, যা আমাদের প্রাপ্য ছিল না।’
ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনাও করেন রিয়াল কোচ। তাঁর দাবি, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। রিয়ালের ব্রাহিম দিয়াজের শট বেতিসের বক্সে রিকার্দো রদ্রিগেজের হাতে লেগেছিল। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ায় ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন, ‘ওটা পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। ব্রাহিমের শটটির সময় তাঁর হাত শরীরের বাইরে প্রসারিত অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে বাড়তি কিছু বলার নেই, বিষয়টি খুবই স্পষ্ট।’