দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেনেগাল
দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেনেগাল

মহানাটকীয়তার ফাইনালে জিতে আফ্রিকায় আবার চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

মরক্কোকে ১–০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) জিতেছে সেনেগাল। গতকাল রাতে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সেনেগালের হয়ে ৯৪তম মিনিটে গোল করেন পাপে গেয়ে। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় এটি সেনেগালের দ্বিতীয় শিরোপা।

তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে ফাইনালে মহানাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে সেনেগাল। মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে দলটি মাঠ ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিল। খেলাও বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। পরে খেলা শুরু হলে মরক্কো পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেনি, উল্টো সেনেগালই গোল করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য থেকে যোগ করা সময় শুরুর পর নাটকীয়তার শুরু। ৯৮ মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ফাউলের শিকার হলে রেফারি জ্যাকস এনদালা পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

রেফারির সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ে সেনেগাল

এর কিছুক্ষণ আগেই ইসমাইলা সারের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। এবার নিজেদের বিপক্ষে পেনাল্টি দেখে তিনি দলকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেন। বেশির ভাগ উঠেও যান। তবে লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার সাদিও মানে মাঠে থেকে যান, সতীর্থদের খেলা চালিয়ে যেতেও বলেন।

এই অচলাবস্থার মধ্যে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১৭ মিনিট। এরপর সেনেগালের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরে এলে আবার খেলা শুরু হয়। মরক্কোর দিয়াজই পেনাল্টি শট নিতে এগিয়ে যান।

তবে মরক্কোর দুর্ভাগ্য, টুর্নামেন্টে ৫ গোল দিয়াজ এ যাত্রায় ‘পানেনকা’ শট নিলে সেটি সেনেগাল গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দির হাতেই যায়। তখনই পূর্ণ সময়ের বাঁশি বাজান রেফারি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেই অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে সেনেগালকে গোল এনে দেন ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে। ২০২১ সালের পর আবারও আফকন চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল।

ফাইনালের একমাত্র গোল পাপে গেয়ের

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই সেনেগালের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ অভিহিত করে বলেন, এটি ‘আফ্রিকার জন্য অসম্মানের’। তবে ফাইনালের আলোচিত চরিত্র সেনেগাল কোচ থিয়াওয়ের সংবাদ সম্মেলন হয়নি। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হট্টগোল বেধে যাওয়ায় সেটি বাতিল করা হয়।

তবে বিইন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থিয়াও স্বীকার করেন, দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া তাঁর ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভেবেচিন্তে আমি তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনি, আসলে মুহূর্তের উত্তেজনায় মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে। আমরা রেফারির ভুলগুলো মেনে নিয়েছি। আমাদের এমনটা করা উচিত হয়নি; কিন্তু যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আমরা ফুটবলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

সাদিও মানেকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে দল

সেনেগালের তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানেও যা ঘটেছে, তা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশেষ কিছু, পুরো বিশ্ব আমাদের দেখছিল, তাই ফুটবলের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি আমাদের বজায় রাখা উচিত। আমার মনে হয়, পেনাল্টি দেওয়ায় খেলা ছেড়ে চলে যাওয়াটা পাগলামি হতো। বিশেষ করে আফ্রিকান ফুটবলের জন্য এটি হতো সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত। এমন কিছুর চেয়ে আমি হেরে যাওয়াও ভালো মনে করি।’