
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইন্টার মায়ামি গোল পাওয়ার পর প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সামনে গিয়ে বুনো উদ্যাপন করেন লিওনেল মেসি।
প্রতিপক্ষের সামনে গিয়ে বুনো উদ্যাপনে মেতে ওঠার দৃশ্য লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে একেবারেই বিরল। মেক্সিকান ক্লাব আতলাসের বিপক্ষে কাল লিগস কাপের ম্যাচে এমন অচেনা মেসিকেই দেখা গেছে।
ম্যাচটা ১–১ সমতায় শেষ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে মেসির বানিয়ে দেওয়া বল থেকে গোল করেন মার্সেলো ভাইগান্ট। এর কিছুক্ষণ পরেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে ২–১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।
শেষ মুহূর্তে ভাইগান্টের সেই গোলের পরই আতলাসের উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার মাতিয়াস কোক্কারোর সামনে গিয়ে বুনো উদ্যাপন করেন মেসি। সেই মুহূর্তে কোক্কারো মেসির দিকে তাকিয়ে শুধু মাথা নাড়ান ও মুচকি হাসি দেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, শুধু মেসি বলেই এমন উদ্যাপন দেখার পরও তিনি চুপ ছিলেন।
ম্যাচ শেষে মেসি তাঁর কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশের পর আলিঙ্গন করেছেন, এমনকি জার্সিও উপহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোক্কারো। মেসির এই আচরণ তাঁকে আরও মহান করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।
মেসি কেন এমন বুনো উদ্যাপনে করেছেন, সেটির ব্যাখ্যায় ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে কোক্কারো বলেছেন, ‘আমরা যখন সমতাসূচক গোল পেলাম, তখন আমি সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলাম। তাঁর (মেসির) এটা পছন্দ হয়নি। যখন ইন্টার মায়ামি (জয়সূচক) গোলটা পেল, তখন তিনি একদম আমার সামনে এসে উদ্যাপন করলেন।’
এরপর কোক্কারো বলেছেন, ‘মেসি ইতিহাসের সেরা। শুধু তিনি বলেই আমি চুপ ছিলাম...তাঁর জায়গায় অন্য কেউ থাকলে নয়। আর (লুইস) সুয়ারেজ আমার আদর্শ।’
মেসির সঙ্গে সবকিছু সৌহার্দ্যপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোক্কারো, ‘ম্যাচ শেষে আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করেছি। আমি তাঁকে বললাম, আপনাকে আসলে আমি কী বলতে পারি? আমি একজন প্রতিদ্বন্দ্বী, সব সময় জিততে চাই। কথাটি শোনার পর তিনি বললেন, “আমার জার্সিটা তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব।” এভাবে এসে দুঃখ প্রকাশ করা তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জানান দেয়, আসলে তিনি কে। এটা আমার ওপর দারুণ প্রভাব ফেলেছে।’
কোক্কারো আরও জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে মেসির ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। বিষয়টি ছিল মাঠের লড়াইয়ের অংশ, ‘তিনি বুঝতে পেরেছেন আতলাসের জন্য আমি সবকিছু নিংড়ে দিয়েছি। এটা আমি মনে ধারণ করি। এ কারণেই তিনি ওভাবে উদ্যাপন করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনিই এগিয়ে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। যদিও তা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এই আচরণ তাঁকে আরও মহান করে তুলেছে।’
মেসি এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। জুলাইয়ে ৬ ম্যাচ খেলে করেছেন ৮ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪টি। আতলাসের বিপক্ষে কাল লিগস কাপের ম্যাচে গোল না পেলেও মায়ামির ২টি গোলেই বল বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে ৭৩ বার বলে স্পর্শ করেছেন, বড় সুযোগ তৈরি করেছেন ৩টি। এ ছাড়া সাতবার ড্রিবলে সফল হয়েছেন এবং ১৫টি ডুয়েলের মধ্যে ৯টিতে জিতেছেন।