মেসি ও দেম্বেলে, বার্সেলোনায় যখন সতীর্থ ছিলেন
মেসি ও দেম্বেলে, বার্সেলোনায় যখন সতীর্থ ছিলেন

মেসি কি আবার বিশ্বকাপ জিতবেন, কী বলেন দেম্বেলে

সময় আসে, সময় যায়; ক্যালেন্ডারের পাতা ওলটায় নিয়ম মেনে। কিন্তু কিছু জাদুকরের কাছে এসে সময়ের চাকা যেন থমকে দাঁড়ায়। রোজারিও থেকে উঠে আসা সেই চেনা জাদুকরকে যখনই মনে হয়—এবার হয়তো থামবেন, তখনই তিনি নতুন কোনো রূপকথার জন্ম দেন। বয়স এখন ৩৮। সাধারণ ফুটবলারদের জন্য এই বয়সে বুটজোড়া তুলে রেখে স্মৃতির জাবর কাটাটাই নিয়ম। কিন্তু তিনি তো সাধারণ নন, তিনি লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে তাই আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে যখনই কথা হচ্ছে, ঘুরেফিরে আসছে সেই একটি নাম। আর সেই সুরেই সুর মেলালেন তাঁর সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ এবং বর্তমানে পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলে। কিছুদিন আগেই পিএসজির হয়ে নিজের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। অথচ ফরাসি এই তারকার কণ্ঠে নিজের স্তুতির চেয়ে বেশি ঝরল তাঁর সাবেক অধিনায়কের বন্দনা।

স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে যখন মেসির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত মুগ্ধতা। কাতারের সেই মরুর বুকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর চার বছর কেটে গেছে। ৩৮ বছর বয়সেও কি মেসি পারবেন সেই অবিশ্বাস্য কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে? দেম্বেলের উত্তরটা ছিল সোজাসাপটা, ‘অবশ্যই, সম্ভব। সব ট্রফি জেতার সামর্থ্য ও রাখে। বার্সেলোনায় থাকার সময় ও কী করতে পারে, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি।’

বয়স কি তবে শুধুই একটা সংখ্যা? ফুটবল মাঠে গতির চেয়ে যেখানে মস্তিষ্কের খেলা বেশি, সেখানে মেসি এখনো অনন্য। দেম্বেলে ঠিক এই জায়গাতেই আলো ফেলেছেন। চার বছর আগের চেয়ে মেসির ধার একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে অভিজ্ঞতা। ফরাসি উইঙ্গার বলেন, ‘বয়স চার বছর বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কিচ্ছু যায়–আসে না। আমার দেখা ইতিহাসের সেরা ফুটবলার ও। ফুটবল–দুনিয়া ওর চেয়ে সেরা আর কাউকে দেখেনি। ও এখনো অবিশ্বাস্য রকমের বিপজ্জনক। ৩৮ বছর বয়সেও ওকে থামানো ভীষণ কঠিন।’

ষষ্ঠ বিশ্বকাপের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি

বিশ্বকাপে ফ্রান্স নামছে ফেবারিট হিসেবেই। গত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দল তারা। স্বাভাবিকভাবেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের ওপর থাকবে স্পটলাইটের তীব্র আলো। আগামী মঙ্গলবার সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ফরাসিদের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘আই’তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে। কিন্তু দেম্বেলে জানেন, ফেবারিট তকমাটা মাঠের ফুটবলে কতটা মূল্যহীন। তাঁর মতে, ‘ফুটবলে ফেবারিট তকমাটার এখন আর কোনো অর্থ নেই। অনেক দলই এবার দাবিদার। আর আমরা যেহেতু গত দুটি ফাইনাল খেলেছি, তাই আমাদের ওপর সবার বাড়তি নজর থাকবে। তবে আমরা আপাতত গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিয়েই ভাবছি।’

ফ্রান্স যখন সেনেগালকে নিয়ে ছক কষছে, তখন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নামবে তাদের মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে। গ্রুপ ‘জে’তে আলবিসেলেস্তেদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

বিশ্বকাপের কোনো না কোনো পর্যায়ে যদি আবার দেখা হয়ে যায় ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার? দেম্বেলের কথায় সেই সতর্কতা স্পষ্ট, ‘মেসির যে গুণগুলো আছে, তা সব সময়ই থাকবে। আমাদের ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ও একাই আবারও বিশ্বকাপ জিতে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’