
প্রিয় মানুষ যখন বড় কোনো লড়াইয়ে নামেন, তখন আশপাশের মানুষদের কেউ প্রার্থনায় বসে যান, কেউ প্রদীপ জ্বালিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। মানুষের ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি বিচিত্র। কিন্তু ফুটবল যে দেশে জীবনযাপনের অংশ, সেই ব্রাজিলে বিষয়টা একটু ভিন্ন রকম।
ব্রাজিলে অনেক ফুটবলারের স্ত্রী বা সঙ্গীই খেলার সময়টায় উদ্বেগ কাটাতে প্রার্থনা ছাড়াও বসে যান নেইল পলিশের শিশি নিয়ে। নখের ক্যানভাসে দেশের পতাকা আঁকাটাও তাঁদের কাছে প্রিয়জনের খেলা দেখার একটা প্রস্তুতি।
এই বিশ্বকাপও ব্যতিক্রম নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের আজ সকালেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা খেলে ফেলার কথা। এই ম্যাচ সামনে রেখে ব্রাজিল ফুটবলারদের স্ত্রী–সঙ্গিনীদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। নেইমার, রাফিনিয়াদের সঙ্গীরা করেছেন তাঁদের হাতের সাজ। কেউ এঁকেছেন স্বামীর জার্সি নম্বর, কেউ আবার দেশের পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন হাত।
এনদ্রিকের স্ত্রী গ্যাব্রিয়েল মিরান্দা পেশায় ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার। বিশ্বকাপে তাঁর কিছু না কিছু করারই কথা। মিরান্দা এক আঙুলের নখে এঁকেছেন এনদ্রিকের জার্সি নম্বর ‘১৯’।
লুকাস পাকেতার স্ত্রী দুদা ফোরনিয়ে আবার একটু সৃজনশীল পথে গেছেন। চিরাচরিত ‘ ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউরে’ সাধারণত নখের ডগায় সাদা রেখা থাকে। তবে পাকেতার স্ত্রী সাদা রঙের জায়গায় দিয়েছেন সবুজ-হলুদ।
ব্রুনো গিমারায়েসের স্ত্রী আনা লিদিয়াও ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি ব্রাজিলের পতাকার রংই বেছে নিয়েছেন তাঁর নখের সাজে। আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ক্যারল ক্যাব্রিনো বেছে নিয়েছেন হলুদ রং, একরঙা স্টাইলে। ক্যাব্রিনো ব্রাজিল অধিনায়ক মারকিনিওসের স্ত্রী। নেইমারের সঙ্গী ব্রুনা বিয়ানকার্দি সোজাসাপটা বেছে নিয়েছেন সাদা রং। নকশাটা তিনি নখে নয়, করেছেন হাতেই।
সবচেয়ে মজার গল্পটা বোধ হয় রাফিনিয়ার স্ত্রী নাতালিয়া রদ্রিগেস বেলোলির। তিনি জানিয়েছেন, সময়ের অভাবে নখ ডিজাইন করতে বাইরে যাওয়ার সুযোগই পাননি। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় নিজেই বসে গেছেন নিজের নখ সাজাতে।
প্রশ্ন জাগতে পারে, নখ-সাজানোটা কি এবারেরই আবিষ্কার? না, এটা বরং ব্রাজিলে রীতিমতো মৌসুমি এক সংস্কৃতিতেই পরিণত হয়েছে। এর একটা নামও আছে—‘ব্রাজিলকোর’ বা ‘ব্রাজিলিয়ান অ্যাসথেটিক’।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় এই ট্রেন্ড প্রথম আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফ্যাশন–দুনিয়ায় তখন এই ব্রাজিলিয়ান অ্যাসথেটিক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যেখানে জাতীয় দলের জার্সি, দেশের নাম লেখা পোশাক এবং সবুজ-হলুদ-নীল রঙের জিনিসপত্র মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই উন্মাদনা শুধু খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দেশটির নারীদের অনেকেই এ কাজ করে থাকেন। সবার উদ্দেশ্য একটাই—ব্রাজিলের জয় কামনা। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেটি কতটা কাজে লাগল, তা নিশ্চয় এরই মধ্যে সবাই জেনে গেছেন।