ম্যাচ শেষে সম্প্রচার ক্যামেরার সামনে বেশ হতাশাই প্রকাশ করলেন বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। জার্মানির সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘আমরা আর শীর্ষ দল নই, মাঝারি মানের দলে পরিণত হয়েছি।’
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতা জার্মানি এক যুগ ধরে সাফল্যখরায় ভুগছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এ দলেরই দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে বড় উচ্চতায় উঠে যাওয়া ক্লপের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচেই হতাশাজনক ফল। উয়েফা নেশনস লিগে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর গতকাল ঘরের মাঠে গ্রিসের কাছে ১-০ হার। গ্রিসের বিপক্ষে হারটি আবার দেশটির বিপক্ষে জার্মানির ইতিহাসে প্রথম।
তবে এখনই হতাশ নন ক্লপ। গ্রিসের কাছে হারের পর জার্মানি কোচ বলেছেন, ‘এটা প্রক্রিয়ার অংশ।’ একাদশে অনেক পরিবর্তন, নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা—সবকিছুর দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি। বলেছেন, এক সপ্তাহের অনুশীলনে নতুন করে গড়া একটি দলকে অতি রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে সময় লাগবে।
ক্লপের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবেই প্রথম চার ম্যাচের জন্য ৪৪ জনের দুটি স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য, ২০২৮ ইউরো সামনে রেখে যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে দেখে নেওয়া এবং এই সময়ের মধ্যে দলের কাঠামো তৈরি করা। ফলে শুরুতেই ফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন ও সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাই স্পষ্ট ছিল।
গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচেও সেটির ছাপ ছিল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শুরু করা দল থেকে পাঁচটি পরিবর্তন করেন ক্লপ। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েছেন আবার একই সঙ্গে মাঠে নিজের চাওয়া ‘প্যাটার্ন’ কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও দেখেছেন। তাঁর মতে, দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে জার্মানি সেই ছন্দ কিছুটা পেয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় দল।
ফল নিয়ে ক্লপ নিজেও খুশি নন। বলেছেন, ‘ম্যাচটি আমরা বড় ব্যবধানে না জিতলে, এমনকি জিততে না পারলেও আমি মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু কোনোভাবেই হারা যেত না। অথচ আমরা ঠিক সেটাই করে বসলাম।’
গ্রিসের বিপক্ষে জার্মানি বলের দখল ও নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৭৪ মিনিটে দিমিত্রিয়োস কুরবেলিসের ডিফ্লেক্টেড শটে গোল হজম করে ম্যাচ হারে।
আর এখানেই প্রশ্ন শোয়াইনস্টাইগারের। জার্মানির হয়ে ১২১ ম্যাচ খেলা সাবেক মিডফিল্ডার মনে করেন, দল প্রতিপক্ষের ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারছে না। তাঁর মতে, ডাচদের বিপক্ষে কিছুটা ভালো খেললেও গ্রিকদের বিপক্ষে জার্মানির দুর্বলতা ফুটে উঠেছে।
শোয়াইনস্টাইগার অবশ্য ক্লপকে সরাসরি দায়ও দিতে চান না, ‘ক্লপ কোনো জাদুকর নন। এটা কঠোর পরিশ্রমের ব্যাপার।’ তাঁর মতে, খেলোয়াড়দেরও নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—তাঁরা যা পারছেন, সেটিই কি তাঁদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য?
চলমান ফিফা উইন্ডোয় জার্মানি আরও দুটি ম্যাচ খেলবে। ১ অক্টোবর মিউনিখে প্রতিপক্ষ সার্বিয়া, ৪ অক্টোবর গ্রিসের বিপক্ষে ফিরতি লেগ এথেন্সে।