
লা লিগায় উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্যাম্প ন্যুতে গতকাল স্বাগতিকদের ২–১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন রাফিনিয়া। দুই দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রেটিং দিয়েছে গোল।
হোয়ান গার্সিয়া—৭/১০
দুই গোলের কোনোটির জন্যই তাঁকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। তিনটি সেভ করেছেন, যার মধ্যে আরদা গুলেরের নিচু শট ঠেকানো গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে এগিয়ে আসার আগেই বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করেন।
জাভি এসপার্ত—৬/১০
প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। এর আগে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়েছিলেন। নিজের সামর্থ্য দেখানোর খুব বেশি সুযোগ পাননি।
পাও কুবারসি—৬/১০
বল পায়ে স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পেকে ভালোভাবে থামালেও শেষ দিকে রিয়ালের জয়সূচক গোলের আক্রমণে কামাভিঙ্গার কাছে পরাস্ত হন।
জেরার্দ মার্তিন—৬/১০
প্রথম গোলের ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর ক্লিয়ারেন্স এমবাপ্পের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে হেড থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু আন্দ্রি লুনিন দুর্দান্ত সেভে তাঁকে আটকে দেন।
জোয়াও কানসেলো—৭/১০
বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ভালো পারফর্মারদের একজন। আক্রমণে সামনে উঠেছেন, সেটপিস থেকেও সুযোগ তৈরি করেছেন। ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪টি সুযোগ তৈরি করেছেন। তবে ইয়ান দিয়োমান্দে কয়েকবার তাঁকে শারীরিক শক্তিতে পেছনে ফেলেছেন।
রদ্রি—৭/১০
মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ ও পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলেন গোছানো। ৯৬ পাসের ৮৪টি ঠিকঠাক লক্ষ্যে গেছে। আবার সেটপিস থেকে আসা বলও বিপদমুক্ত করেছেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর নিচু শট রিয়াল গোলকিপার লুনিনকে পরীক্ষা নেয়।
পেদ্রি—৭/১০
বার্সেলোনার সমতাসূচক গোলের কারিগর। শট নেওয়ার ভান করে রিয়াল–রক্ষণকে বিভ্রান্ত করেন; এরপর দারুণ পাসে রাফিনিয়াকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। তবে প্রথমার্ধে কয়েকবার বল হারিয়ে ফেলায় রিয়াল পাল্টা আক্রমণের সুযোগও পেয়েছে।
ফেরমিন লোপেজ—৬/১০
অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে যায়। মার্ক কুকুরেয়া তাঁকে বারবার ফাউল করলেও ফিনিশিং পাসে কার্যকর হতে পারেননি। ৭৪ মিনিটে কোচ তাঁকে উঠিয়ে নেন।
লামিনে ইয়ামাল—৭/১০
কুকুরেয়ার জন্য পুরো ম্যাচেই অস্বস্তির কারণ ছিলেন ইয়ামাল। দূর থেকে বাঁকানো শটে গোলের কাছাকাছিও গিয়েছিলেন। রিয়ালের বক্সে সবচেয়ে বেশি ১১ বার বল টাচ করেছেন। ড্রিবলও করেছেন চারটি। সব মিলিয়ে খারাপ খেলেননি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে রিয়াল গোলকিপারকে একা পেয়েও সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। এ নিয়ে আক্ষেপেই পোড়ার কথা।
অ্যান্টনি গর্ডন—৮/১০
এল ক্লাসিকোয় অভিষেকেই নজর কেড়েছেন এই ইংলিশ উইঙ্গার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণ করে লুনিনকে একাধিকবার সেভ করতে বাধ্য করেছেন। বিরতির আগে ইয়ামালের বড় সুযোগটিও তৈরি হয়েছিল তাঁর পাস থেকে। ৮৫ মিনিটে বদলি হওয়ার আগে হলুদ কার্ড দেখেন।
রাফিনিয়া—৮/১০
বার্সেলোনার সেরা পারফর্মারদের একজন। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পেদ্রির পাস থেকে বাঁ পায়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেছেন। বদলি হওয়ার আগপর্যন্ত বার্সেলোনার সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় ছিলেন।
আলেহান্দ্রো বালদে—৬/১০
এসপার্তের বদলি হিসেবে প্রথমার্ধেই মাঠে নামতে হয়েছে। বাঁ প্রান্তে গতিশীল ছিলেন; পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এমবাপ্পেকে একবার দারুণভাবে থামিয়েছেন। পরে অবশ্য ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।
ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং—৬/১০
৭৪ মিনিটে মাঠে নেমে বার্সেলোনাকে আক্রমণে চাপ ধরে রাখতে সাহায্য করেন। তাঁর একটি গোলমুখী শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার দুর্দান্তভাবে ব্লক করেন।
হান্সি ফ্লিক—৬/১০
বল দখলে রাখা ও উঁচুতে উঠে চাপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। বল দখলে ৬২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ও ১৭টি শট নেওয়ার পরও সেই আধিপত্যকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি দল। শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে রক্ষণভাগের দুর্বলতাও ধরা পড়ে।
আন্দ্রি লুনিন—৭/১০
অসুস্থ থিবো কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ভালো খেলেছেন। লক্ষ্যে থাকা ছয়টি শটের মধ্যে পাঁচটি ঠেকিয়েছেন। রাফিনিয়ার গোলটি আটকাতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে জেরার্দ মার্তিনের কাছ থেকে দারুণ সেভে দলকে বাঁচান।
ফেদেরিকো ভালভের্দে—৬/১০
রাইটব্যাকের ভূমিকায় মূলত গর্ডনকে সামলানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর। ৬২ মিনিট পর্যন্ত রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সাহায্য করেন। এরপর বদলি হন।
ডিন হুইসেন—৮/১০
রিয়ালের রক্ষণভাগে অন্যতম সেরা পারফরমার। গুরুত্বপূর্ণ ব্লক, ক্লিয়ারেন্সসহ মোট ১৯টি রক্ষণাত্মক হস্তক্ষেপ করেছেন। ট্যাকল জিততে না পারলেও খেলা পড়ার ক্ষমতা ও উড়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় দক্ষতায় বার্সেলোনাকে সুবিধাজনক জায়গা থেকে আক্রমণ করতে দেননি।
ইব্রাহিমা কোনাতে—৭/১০
বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে শারীরিক শক্তি কাজে লাগিয়েছেন। ২৮ পাসের ২৬টিই লক্ষ্যে পৌঁছেছে, ট্যাকলস, ব্লক, ৪টি ক্লিয়ারেন্সসহ রক্ষণে অবদান ৯টি।
মার্ক কুকুরেয়া—৬/১০
ইয়ামালকে আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁর। প্রতিপক্ষের ড্রিবলিংয়ে কয়েকবার সমস্যায় পড়লেও রক্ষণে অবস্থান ধরে রেখেছেন। বার্সেলোনার আক্রমণের সৃজনশীলতা কমিয়ে রাখতে ভূমিকা ছিল তাঁর।
অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি—৮/১০
মাঝমাঠে রিয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ৪৬টি পাসের মধ্যে ৪৪টি সঠিকভাবে দিয়েছেন, সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ। বল রিকভারিও আছে ১১ বার। রক্ষণভাগের সামনে থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি চাপের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
বের্নার্দো সিলভা—৭/১০
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছেন। বল দখলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় বার্সেলোনার চাপ সামলে সামনে বল পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন। ৮০ মিনিটে বদলি হন।
আরদা গুলের—৭/১০
এমবাপ্পের পর রিয়ালের আক্রমণে সবচেয়ে ধারাবাহিক হুমকিগুলোর একটি ছিলেন। মোট পাঁচটি শট নিয়েছেন, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। জোয়ান গার্সিয়াকে কয়েকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেললেও গোল করতে পারেননি।
জুড বেলিংহাম—৬/১০
নম্বর টেনের ভূমিকায় খেললেও গোলের সামনে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি। ৭৮ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবে মাঝমাঠে রদ্রির প্রভাব কমিয়ে রাখতে তাঁর অবস্থান ও পরিশ্রম লক্ষণীয় ছিল।
ইয়ান দিয়োমান্দে—৬/১০
বাঁ প্রান্তে খেলেছেন মূলত দলের রক্ষণাত্মক কাঠামো ঠিক রাখার দায়িত্ব নিয়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে তাঁর একটি শট ব্লক হয়। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হন।
কিলিয়ানএমবাপ্পে—১০/১০
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর দুই গোলেই জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন, আর ৮৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোলটি করেন। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ও গতি দিয়ে বার্সেলোনার রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছেন। ক্লাবের হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলকেও পৌঁছেছেন এই ম্যাচে।
ডেনজেল ডামফ্রিস—৬/১০
৬২ মিনিটে ভালভের্দের বদলি হিসেবে নামেন। ডান প্রান্তে নতুন শক্তি যোগ করার পাশাপাশি রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।
জোসে মরিনিও—৯/১০
বল দখলে বার্সেলোনাকে এগিয়ে থাকতে দিয়ে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ নেওয়ার কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। রক্ষণে হুইসেনকে খেলানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়েছে। সমতাসূচক গোল হজমের পর বদলি খেলোয়াড়দের ব্যবহারে দল আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। সব মিলিয়ে কৌশলগতভাবে সফল একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন মরিনিও।