
আয়োজক তিন দেশে ভেন্যুগুলোর দূরত্ব, বিশাল ভ্রমণ খরচ আর লজিস্টিকসের ব্যয় সামলাতে গিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পকেটে টান পড়বে—এমন এক শঙ্কা বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল বিশ্বকাপগামী দলগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভয় ছিল, উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ থেকে যা আয় হবে, তার চেয়ে খরচই হয়তো বেশি হয়ে যাবে। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলে লোকসানের মুখেও পড়তে হতে পারে, এমন হিসাবও সামনে এসেছে বিভিন্ন ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে।
চিন্তিত সেই দেশগুলোকে এবার স্বস্তির খবর দিয়েছে ফিফা। মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিল সভায় ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আগের ঘোষিত প্রাইজমানি আরও ১৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোর মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার ৬৯০ কোটি টাকার বেশি (১২২.৭৪ হারে)।
এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ১৬টি দল বেড়ে মোট অংশগ্রহণকারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—তিন দেশে ছড়িয়ে থাকা ভেন্যুগুলোর কারণে যাতায়াত, আবাসন ও পরিচালন ব্যয় আগের যেকোনো আসরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশঙ্কা করছে অনেক ফেডারেশন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ করহার এবং ব্যয়বহুল টিকিট ব্যবস্থাপনা, যা দলগুলোর আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ফিফা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। বর্ধিত এই অর্থ তিনটি খাতে ভাগ করে দেওয়া হবে—
প্রস্তুতি অর্থ: ১৫ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ ডলার
বাছাইপর্ব সহায়তা: ৯০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ডলার
ভর্তুকি: প্রতিনিধিদলের খরচ ভর্তুকি ও টিকিট বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি
ফিফা জানিয়েছে, এই বাড়তি অর্থ মূলত দলগুলোর বাড়তি ব্যয় সামলাতে সহায়ক হবে, বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণ ও লজিস্টিকসের চাপ মোকাবিলায়।
এ বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা তার ইতিহাসের সবচেয়ে মজবুত আর্থিক অবস্থানে আছে, যা আমাদের সদস্য সংস্থাগুলোকে নজিরবিহীনভাবে সহায়তা করার সুযোগ দিচ্ছে। ফিফার সম্পদ কীভাবে আবার খেলায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এটি তারই আরেকটি উদাহরণ।’
এর আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও পিএ মিডিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রাইজমানি বাড়লেও সামগ্রিক আর্থিক চিত্র নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে অনেক দেশের। ফিফা গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের জন্য ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে সেই বাড়তি অর্থের বড় অংশই টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সনির্ভর হওয়ায়, গ্রুপ পর্বে বাদ পড়া দলগুলোর জন্য আর্থিক লাভ সীমিত থাকতে পারে।