আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনে
আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনে

চ্যাম্পিয়নস লিগ

কুসংস্কারে বিশ্বাস থেকেই কি হোটেল পাল্টেছেন সিমিওনে

ডিয়েগো সিমিওনে কি কুসংস্কার মানেন? ‘স্কুয়াকা’ ওয়েবসাইটে চার বছর আগেই প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে রেখেছেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক গিলের্মে সিকুয়েইরিয়া। আতলেতিকো মাদ্রিদে সিমিওনের অধীনে তিনটি বছর (২০১৪-২০১৭) খেলা সিকুয়েইরিয়ার ভাষায়, সিমিওনে ‘ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন কোচ’।

কুসংস্কারে আরও অনেক কোচেরই বিশ্বাস আছে। তবে সিমিওনের ব্যাপারটি আলাদা করে উঠে আসার কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল ফিরতি লেগের আগে একটি ঘটনা। এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ রাতে স্বাগতিক হয়ে আতলেতিকোকে আতিথ্য দেবে আর্সেনাল। এই ম্যাচের আগে দলবল নিয়ে সিমিওনের হোটেল পাল্টানো আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বছর অক্টোবরে চ্যাম্পিয়নস লিগে লিগ পর্বের ম্যাচে লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। সেই ম্যাচে আর্সেনালের বিপক্ষে তারা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এবার সেমিফাইনাল ফিরতি লেগের আগে ম্যারিয়ট হোটেল এড়িয়ে শোরডিচের কোর্টহাউস হোটেলে উঠেছে সিমিওনের দল। গুঞ্জন উঠেছে, গতবার হারের দুর্ভাগ্য এড়াতেই এবার হোটেল বদল করেছেন আতলেতিকো কোচ। তবে সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে এমন দাবি হেসে উড়িয়ে দেন।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে দাবি করেন, ‘এই হোটেল আগের চেয়ে সস্তা। সে জন্য আমরা (হোটেল) পাল্টেছি।’ কিন্তু গুঞ্জন চলছে, খেলোয়াড়দের ওপর কোনো অলক্ষুণে ছায়া যেন না পড়ে, সে ভাবনা থেকেই আগেরবারের হোটেল বদলের নির্দেশ দেন সিমিওনে।

আর্সেনালের মুখোমুখি হওয়ার আগে শেষ প্রস্তুতিতে আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা। পাশেই কোচ সিমিওনে

এমন গুঞ্জন ওঠার অবশ্য কারণও আছে। সিমিওনের যে কুসংস্কার মেনে চলার বাতিক আছে, সেটা ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে মোটামুটি সবারই জানা। ২০১৪ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লাল-সাদা জার্সি পরে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আতলেতিকোর। সে কারণে দুই বছর পর একই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠে নীল জার্সি পরে মাঠে নামার অনুমতি চেয়েছিলেন সিমিওনে।

বাকিটা শুনতে পারেন সিকুয়েইরিয়ার মুখে। সিমিওনের কুসংস্কারে বিশ্বাস নিয়ে ইএসপিএন ব্রাজিলকে সিকুয়েইরিয়া বলেছিলেন, ‘ফুটবলের ইতিহাসে আতলেতিকোর মতো এমন কুসংস্কারাচ্ছন্ন কোচিং স্টাফ আমি আর কখনোই দেখিনি। এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আগে কখনো যেতে হয়নি আমাকে।’

সিকুয়েইরিয়া আরও বলেন, ‘হোটেল ছাড়া থেকে শুরু করে বাসে চড়া কিংবা ম্যাচ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত আমাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হতো। বাসে সব সময় একই গানের তালিকা বাজাতে হতো। ড্রেসিংরুমের চিত্রও ছিল একই রকম। ওয়ার্মআপ থেকে ফিরে দেখতাম, সিমিওনে আপন মনে বল ড্রিবল করছেন। খেলোয়াড়দের নিয়ে গোল হয়ে দাঁড়ানোর আগে তিনি বলটি অধিনায়কের হাতে তুলে দিতেন।অধিনায়ককেও ঠিক একইভাবে তা করতে হতো; এর কোনো ব্যতিক্রম করার উপায় ছিল না।’

কুসংস্কারে বিশ্বাস আছে সিমিওনের

বেনফিকার হয়ে পর্তুগালের শীর্ষ লিগজয়ী সিকুয়েইরিয়া কিছু ঘটনাও উল্লেখ করেন, ‘প্লেলিস্টে সব ধরনের গানই থাকত—রেগেটন, স্প্যানিশ কিংবা লাতিন মিউজিক। সব গানই বাজানো হতো সব সময় একই পেনড্রাইভ থেকে। ভুল করেও কেউ যদি সেই প্লেলিস্ট বদলানোর চেষ্টা করত, তবে তার কপালে দুঃখ ছিল। একদিন বাসে হঠাৎ গান বন্ধ হয়ে যায়। তাতেই সিমেওনে এমন ক্ষিপ্ত হলেন যেন আমরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছি! চিৎকার করে বলছিলেন, “গান চালাও!” শেষ পর্যন্ত আমাকেই তাঁকে শান্ত করতে হয়েছিল।’

এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ যাওয়ার পথেও কি এসব বিশ্বাসে আস্থা রাখবেন সিমিওনে? উত্তর সময় হলেই জানা যাবে। আতলেতিকোর মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল। আজ রাতে ফিরতি লেগে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।