ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে এখনও শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে এখনও শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি

ম্যানচেস্টার সিটির আপিলের শুনানি জানুয়ারিতেই

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা শতাধিকবার ভাঙার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে শাস্তি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ক্লাবটি। সেই আপিলের শুনানি আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্বাধীন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইএফআর) চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান।

গত সপ্তাহে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা ষষ্ঠ জয় পেয়েছে সিটি। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ক্লাবটির সামনে এখন বড় বিপদের আশঙ্কা। শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে তাদের। এমনকি নেমে যেতে হতে পারে দ্বিতীয় বিভাগেও। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জেতা তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা আছে।

যদিও শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিটি।

বুধবার টাইমস রেডিওকে কোগান জানিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ চলতি মৌসুমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি চায়। আপিলের শুনানি করবেন তিনজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা আইনজীবী নিয়ে গঠিত স্বাধীন কমিশন।

কোগানের ভাষায়, ‘আমার জানামতে, এ প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত সময় ১২ সপ্তাহ। সে কারণেই ধারণা করা হচ্ছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে শুনানি হবে। তবে এটি আমাদের কাজের অংশ নয়। প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের বিষয়।’

সিটির শাস্তি নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি বলেছিলেন, রায়ের পর সিটির আবুধাবিভিত্তিক মালিকেরা ক্লাব ছেড়ে গেলে তিনি ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ হবেন। এ মন্তব্যের সমালোচনা হলে পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, কেউই নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়।

২০১৭ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকা বার্নহ্যাম পরে সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করেন। কয়েক বছর আগে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারকের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। সাবেক অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানির বিদায়ী ম্যাচেও তাঁদের কথা হয়। সরকারি বিদেশ সফরে সিটির কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

বুধবার পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি জেরোম মেহিউ জানতে চান, সিটির কেউ কখনো বার্নহ্যাম বা তাঁর দলের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলেছিলেন কি না। বার্নহ্যামের উত্তর, ‘তাঁরা আমার কাছে এসব বিষয় তোলেননি।’

এদিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কোগান। জানিয়েছেন, এমন হস্তক্ষেপ হলে তিনি পদত্যাগ করবেন।