ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে লড়াই মাঠে, বাইরে কোলাকুলিও করতে রাজি দুই দল

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার প্রভাব প্রায়ই পড়ে খেলার মাঠে। ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত না মেলানো নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। তবে ফুটবলে সেই বৈরিতা টেনে আনতে চান না ভারত ও পাকিস্তানের কোচ-অধিনায়কেরা। মাঠে লড়াই হবে ঠিকই, কিন্তু ম্যাচ শেষে হাত মেলাতে আপত্তি নেই কারও। প্রয়োজনে হবে কোলাকুলিও!

আগামীকাল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে ম্যাচটি। আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে প্রথমবারের মতো সাফের শিরোপা জয়ের আশায় পাকিস্তান।

আজ ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচ ও অধিনায়কের কথায় ছিল লড়াইয়ের প্রস্তুতি, জয়ের প্রত্যয় আর সম্প্রীতির বার্তা। ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাবেন কি না, জার্সি বদল করবেন কি না? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা তা করব। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে কোলাকুলিও করব।’

ভারত অধিনায়ক নাথান রদ্রিগেজও ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি চাপের কথা মানতে চাননি। তাঁর কথা, ‘এখানে কোনো চাপ নেই। বরং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং মাঠে শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার অনুপ্রেরণা আছে। আশা করি, ভালো ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব।’

ভারতের কোচ নওশাদ মুসা ও অধিনায়ক নাথান রদ্রিগেজ

আটবারের চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান শিরোপাধারীরা এবার এসেছে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য মূল দলের একাংশকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় সুপার লিগ চলায় সব খেলোয়াড়কেও পাননি কোচ নওশাদ। তবু দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমি তরুণ একটি দল নিয়ে এসেছি। শিরোপা ধরে রাখা নিয়ে সত্যি বলতে আমি খুব একটা উদ্বিগ্ন নই। আমি শুধু ভালো ফুটবল খেলতে চাই। দল ভালো খেললে ফল এমনিতেই আসবে।’

সাফকে ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও উঠেছিল। জবাবে নওশাদ জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করা। এটি ফিফা উইন্ডো না হওয়ায় ক্লাবগুলো থেকেও সব খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন। তবে সাফকে তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পাকিস্তান দলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আলাদা প্রস্তুতি। কোচ তিতুস ব্র্যাম্বল জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ভালো অনুশীলন হয়েছে। লজিস্টিক সমস্যার কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হলেও এখন দল খেলার জন্য প্রস্তুত। পাকিস্তান অধিনায়ক আলমগীর গাজীর কণ্ঠেও আত্মবিশ্বাস, ‘এটি আমাদের জন্য বিশেষ ম্যাচ। আমরা ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করব।’

শুধু নিজেদের ভালো খেলাই নয়, বাংলাদেশের দর্শকদের সমর্থনও চান আলমগীর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। সেই সূত্রেই বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে তাঁর আবেদন, ‘আশা করি, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সমর্থন করবেন। গত মৌসুমে আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে এখানে খেলেছি। যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানকে সমর্থন করেন, ভারতের বিপক্ষেও তারা আমাদের সমর্থন করবেন বলে আশা করি।’

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে হাত মেলানোর প্রসঙ্গ উঠেছিল পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনেও। এ নিয়ে আলমগীরের বক্তব্য, ‘আমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটি তো ক্রিকেট নয়, ফুটবল। আর সে কারণেই খেলাটি এত সুন্দর। আমরাও একই কাজ করব।’

দুই দলের কোচ ও অধিনায়কের কথায় পরিষ্কার, মাঠে কেউ কাউকে একচুল ছাড় দিতে চান না। কিন্তু মাঠের বাইরে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আপত্তি নেই কারও। প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহের মধ্যেও সম্প্রীতির এই বার্তা দিয়ে তাঁরা যেন ফুটবলের সৌন্দর্যকেই সামনে আনতে চাইলেন।

ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তান আছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ। গ্রুপের সেরা দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।