
এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব সামনে রেখে বাফুফে ঘোষিত ২৯ জনের প্রাথমিক দলে চারজন একেবারেই নতুন খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্রাত্যই রয়ে গেছেন সাবিনা খাতুন-কৃষ্ণা রানীদের মতো অভিজ্ঞ তারকারা।
প্রাথমিক স্কোয়াডে এবার নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বিকেএসপির হয়ে চলমান নারী লিগে খেলা উম্মে কুলসুম এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের লেফটব্যাক নাদিয়া আক্তার জ্যোতি। এ ছাড়া প্রথমবার ডাক পেয়েছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলা বিকেএসপির লেফটব্যাক উন্নতি খাতুন।
ব্যাংককে সদ্য শেষ হওয়া প্রথম নারী সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা সাবিনা, কৃষ্ণা, মাতসুসিমা সুমাইয়া ও মাসুরা পারভীনদের এবারও বিবেচনা করেননি কোচ পিটার বাটলার। মূলত গত বছরের জানুয়ারিতে কোচের বিরুদ্ধে ১৮ জন ফুটবলারের বিদ্রোহের পর দলের সমীকরণে যে বদল আসে, সেটিরই অংশ এটি। সেই বিদ্রোহে থাকা মনিকা, তহুরা, ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহাররা দলে জায়গা ফিরে পেলেও সাবিনা-কৃষ্ণা–মাসুরাদের কপাল খোলেনি। বাটলার শুরু থেকেই তাঁদের দলের বাইরে রাখার যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বর্তমান স্কোয়াড নির্বাচনেও রয়েছে তার প্রতিফলন।
নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ফুটসালজয়ী দলের অধিনায়ক সাবিনা অবশ্য নির্ভার। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আর কোনো জটিলতায় জড়াতে ইচ্ছুক নন তিনি। প্রথম আলোকে এক সাক্ষাৎকারে সাবিনা বলেন,‘ ফুটবলে ফেরার আশা তো আছেই। কিন্তু আমার কোনো তাড়া নেই। এই ঝামেলা আর ভালো লাগে না। সবাই ভালো থাকুক।’
অন্যদিকে জাতীয় দলের অধিনায়ক ডালিয়া আক্তার মনে করেন, শৃঙ্খলার জন্য শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে তা যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়ে খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ধ্বংস না করে। ডালিয়া বলেন, ‘দল নির্বাচনের এখতিয়ার কোচের। কিন্তু ভালো পারফরম্যান্স থাকলে এবং শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা কেটে গেলে দলে ভেড়ানো উচিত। শৃঙ্খলার কারণে কেউ একটা সময় পর্যন্ত শাস্তি পেতেই পারে। কিন্তু তা লম্বা সময় হওয়া উচিত নয়। একজন খেলোয়াড় শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে এলে তার জন্য দরজা খোলা রাখা উচিত। শেষ কথা হলো, ব্যক্তির আগে দল এবং সবার আগে দেশ।’
এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব মার্চে অস্ট্রেলিয়ায়, মাত্র এক মাস বাকি। এই সময়ে কিনা কোচ পিটার বাটলার সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট নিয়ে নেপালের পোখারায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই এশিয়ান কাপের এই প্রাথমিক দল অনুশীলন শুরু করেছে।
শামসুন্নাহার (সিনিয়র), আইরিন খাতুন, মনিকা চাকমা, সুরমা জান্নাত, মারিয়া মান্দা, মোসাম্মৎ সাগরিকা, তহুরা খাতুন, উমেহলা মারমা, শামসুন্নাহার (জুনিয়র), রূপণা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, সিনহা জাহান শিখা, আফিদা খন্দকার, তানিমা বিশ্বাস, শিউলি আজিম, রুমা আক্তার, স্বপ্না রানী, হালিমা আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, মোসাম্মৎ সুলতানা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উম্মে কুলসুম, নাদিয়া আক্তার জ্যোতি, নাবিরন খাতুন, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আক্তার সোনালী, উন্নতি খাতুন এবং কোহাতি কিসকু।