
৩০ মে বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে মাঠে কোনো স্প্যানিশ ক্লাব থাকবে না। কিন্তু স্প্যানিশ ফুটবলের ছাপ থাকবে ঠিকই। অন্তত ডাগআউটে তো বটেই। কারণ, ফাইনালের দুই দল পিএসজি ও আর্সেনালের কোচ হিসেবে মাঠে থাকবেন দুই স্প্যানিশ লুইস এনরিকে ও মিকেল আরতেতা। ফাইনাল নিশ্চিত করেই নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন এই দুই কোচ।
এনরিকে ও আরতেতা—দুজনই এখন নিজেদের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন। আর এই ফাইনালে তাঁরা দুজনই নিজেদের মতো করে ইতিহাস গড়ার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফাইনাল পর্যন্ত।
এবার ফাইনালে উঠে অনন্য এক নজির গড়তে যাচ্ছেন এনরিকে ও আরতেতা। ইতিহাসে এই প্রথম একই দেশের দুই কোচ ফাইনালে লড়বেন, কিন্তু সেই দেশের (স্পেন) কোনো ক্লাবই শিরোপার লড়াইয়ে নেই। শুধু তা–ই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও প্রথমবারের মতো দেখা যাবে দুজন স্প্যানিশ কোচের লড়াই।
আস্তুরিয়ান কোচ লুইস এনরিকের লক্ষ্য ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নিজের তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে নেওয়া। পাশাপাশি পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে অনন্য উচ্চতায় ওঠার সুযোগও আছে তাঁর। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে একমাত্র জিনেদিন জিদান ছাড়া কোনো কোচই শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। এবার জিতলে জিদানের পাশে বসবেন এনরিকে। আর এই কীর্তি এনরিকেকে ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচদের তালিকায়ও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সান সেবাস্তিয়ানে জন্ম নেওয়া আর্সেনাল কোচ আরতেতার সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আর্সেনালকে তাদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে আরতেতাকে। আর্সেনাল এখন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে পারেনি।
এমনকি থিয়েরি অঁরির মতো কিংবদন্তি তারকা এবং আর্সেন ওয়েঙ্গারের মতো সফল কোচের নেতৃত্বে থাকা দুর্দান্ত দলও ইউরোপিয়ান শিরোপা ছুঁতে পারেনি। ২০ বছর আগে ফাইনালে গিয়ে দলটি হেরেছিল বার্সেলোনার কাছে।
সেই হারের পর এবারই প্রথম ফাইনালে উঠল তারা। এখন আরতেতার সামনে সুযোগ, আর্সেনালের বহু প্রজন্মের অধরা স্বপ্ন পূরণ করা, যা ক্লাব ইতিহাসে তাঁর অমরত্বও নিশ্চিত করবে।