অ্যানফিল্ডের ‘মিসরীয় রাজা’র সিংহাসন ছাড়ার সময় হয়ে এসেছে। লিভারপুলের জার্সিতে মোহাম্মদ সালাহর সেই রূপকথার গল্পগুলো এখন শেষ অধ্যায়ে। তবে সমাপ্তি মানেই তো নতুন কোনো গল্পের শুরু।
প্রশ্ন হলো, সালাহর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? ফুটবল–বিশ্বে কান পাতলে এখন সবচেয়ে বড় গুঞ্জন—মরুর বুকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন সালাহ! যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তবে ফুটবলের রোমাঞ্চকর এক দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রিয়াদ—একই জার্সিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন রোনালদো ও সালাহ।
ফুটবল–বিষয়ক ওয়েবসাইট টিমটকের খবর অনুযায়ী, ফ্রি এজেন্ট হিসেবে সালাহ যখন অ্যানফিল্ড ছাড়বেন, তখন তাঁকে দলে ভেড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে আল নাসর। রোনালদো ও সালাহ—আধুনিক ফুটবলের দুই বড় তারকার মিলন ঘটাতে চায় তারা। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রশ্ন উঠছে মাঠের রসায়ন নিয়ে। ‘সিআরসেভেন’ কি পারবেন তার একচ্ছত্র আলো সালাহর সঙ্গে ভাগ করে নিতে? সেই ইগোর লড়াই বা ট্যাকটিক্যাল জটিলতা সামলানোই হতে পারে ক্লাব কর্তৃপক্ষের বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তাদের কাছে সালাহ কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলের এক সাংস্কৃতিক দূত। তাই দুই গোলমেশিনকে একসুতায় গাঁথতে বড় অঙ্কের চেক বই নিয়ে তারা প্রস্তুত।
সালাহকে পেতে রিয়াদে শুধু আল নাসরই একা লড়ছে না। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে আরও চারটি ক্লাব। পুরোনো প্রেম ভুলতে পারেনি আল ইতিহাদ; এর আগে বিশ্ব রেকর্ড গড়া প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল লিভারপুল, কিন্তু এবার তারা আবার ঝাঁপিয়েছে।
তালিকায় আছে আল আহলি ও আল হিলালও। চমক হিসেবে আছে আল কাদসিয়া, যেখানে ডাগআউটে বসে আছেন সালাহর সাবেক গুরু ব্রেন্ডন রজার্স। আল কাদসিয়া সালাহকে পাওয়ার লড়াইয়ে ‘ডার্ক হর্স’ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে অ্যানফিল্ডে এখন বাজছে বিষাদের সুর। লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট সরাসরি স্বীকার করেছেন, আড়াই শর বেশি গোল করা একজন ফুটবলারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন। বলেছেন, ‘আমরা জানি সালাহ চলে যাচ্ছে। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি ঠিক তার মতো কাউকে খুঁজব, নাকি খেলার ধরনেই বদল আনব।’
লিভারপুলের হয়ে ৯ মৌসুমে ২৫৬ গোল করেছেন সালাহ। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ আটটি বড় শিরোপা।