নিজের ভুলে গোল হজমের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলকিপার ম্যাট ফ্রিজ
নিজের ভুলে গোল হজমের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলকিপার ম্যাট ফ্রিজ

গোলকিপারদের বিশ্বকাপে ফ্রিজের অবিশ্বাস্য ভুল

এটা গোলকিপারদের বিশ্বকাপ। তবে সিয়াটলে ম্যাট ফ্রিজকে দেখে মৃদু আপত্তি উঠতে পারে।

বিশ্বকাপে এবার গোলকিপারদের অবিশ্বাস্য ভুলের সংখ্যা বেশ কম; বরং দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া, প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, ইরানের আলী রেজা বেইরানভান্দ, অস্ট্রেলিয়ার প্যাট্রিক বিচ ও কুরাসাওয়ের এলয় রমের বীরত্ব আলোকিত করেছে গোলপোস্ট। তবে এর মধ্যে স্পেনের বিপক্ষে উরুগুয়ে গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরার ভুলটি হয়তো চোখে বিঁধবে। কিন্তু ম্যাট ফ্রিজ তো মুসলেরাকেও ছাপিয়ে গেলেন!

মুসলেরার সেই ভুলে কিছুটা দুর্ভাগ্যও ছিল। স্পেনের অ্যালেক্স বায়েনার শট ঠিকমতো গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি। বল তাঁর হাত ফসকে জালে জড়ায়। কিন্তু ফ্রিজের ভুলটি অবিশ্বাস্য। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ম্যাট আপসনের মতে, ‘হরর শো। ফ্রিজ আসলে কী ভাবছিলেন, কে জানে!’

সিয়াটলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচে তখন ৫৭ মিনিট। বাঁ প্রান্ত থেকে উড়ে আসা পাস পড়ল ঠিক যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পেছনে। তখন হাই লাইন ডিফেন্সে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডাররা। বিপদ টের পেয়ে বেলজিয়াম ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলারাকে ঠেকাতে দৌড় শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন ডিফেন্ডার। ফ্রিজ সে মুহূর্তে পোস্ট ছেড়ে বক্সের বাইরে চলে আসেন। বল বুক দিয়ে ঠেকিয়ে প্রাথমিকভাবে বিপদ এড়ালেও নতুন বিপদ তৈরি হয় তাঁর ভুলের কারণেই।

বল ক্লিয়ার করতে দেরি করেন ফ্রিজ

ফ্রিজ বাঁ পায়ের শটে বলটা ‘ক্লিয়ার’ করতে পারতেন। কিন্তু শট নিতে গিয়ে মাটিতে ঠেকে যায় তাঁর বাঁ পা। তখন কয়েক সেকেন্ড কালক্ষেপণ করা কাল হয় ফ্রিজের জন্য। পাশের সতীর্থকে বল পাস দিতে গিয়েও আর পারেননি। কেটেলারার পায়ে লেগে বল চলে যায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেলজিয়াম মিডফিল্ডার হান্স ফানাকানের কাছে। সুযোগ বুঝে একদম ঠান্ডা মাথার শটে ৩০ গজ দূর থেকে গোল করেন ফানাকান।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিম বাঁ পা বাড়িয়ে সেই শট ঠেকাতে কিংবা দিগ্‌ভ্রষ্ট করতে পারতেন কি না, সে প্রশ্নও উঠতে পারে। তবে ভুলটা যে ফ্রিজের এবং গোলের পর তাঁর মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিশ্চয়ই কষ্ট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের।

হারের পর ফ্রিজকে সান্ত্বনা দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলকিপিং কোচ টনি হিমিনেজ

ফানাকানের গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। পরে রোমেলু লুকাকুর গোলে ৪-১ ব্যবধানের দারুণ জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইউরোপের দলটি।
হারের পর ইয়াহু স্পোর্টসের স্টিভেন গফের সঙ্গে সেই ভুল নিয়ে কথা বলেন ফ্রিজ, ‘তৃতীয় গোলে ভুল সিদ্ধান্তে নিজের যে দায়, তাতে স্পষ্টতই আমি হতাশ।’

বেলজিয়ামের কেটেলারা যে মুহূর্তে তাঁর পেছনে ছিলেন, সে সময়ে কী ভেবেছিলেন ফ্রিজ? হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়া ২৭ বছর বয়সী এই গোলকিপার বলেন, ‘তাঁকে এতটাই কাছে মনে হয়েছে যে ভেবেছি, আমার পায়ে হয়তো লাথি মারবে। তাই আমি নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।’