জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর
জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর

ফিফার ত্রাণের অর্থে ফ্ল্যাট ক্রয়, মালদ্বীপ ফুটবলের সাবেক সভাপতি আজীবন নিষিদ্ধ

আর্থিক অনিয়মের দায়ে সাবেক দুই ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এর মধ্যে এমন একজন সভাপতিও আছেন, যিনি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নির্বাচনী ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ২০১১ সালে শাস্তি পাওয়ার পরও পদে বহাল ছিলেন। তিনি মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল। এর পাশাপাশি মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিলকেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ব্রিটিশ সামুদ্রিক ভুখণ্ড মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রধান ক্যাসেলের বিপক্ষে ‘পদের অপব্যবহার, দফায় দফায় স্বার্থের সংঘাত’ এবং ফিফা ও ফেডারেশনের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। গতকাল শুক্রবার বিবৃতিতে এ খবর জানায় ফিফা। ৩০ বছর ধরে মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ক্যাসেলের বিরুদ্ধে গত বছর ডিসেম্বরে অপরাধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল

ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও জানায়, মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জলিল ফিফার ‘কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করায়’ তাঁকে ফুটবলে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

করোনা মহামারির সময়ে ২০২০ সালে ফিফা জানিয়েছিল, তারা অনুদান ও ঋণ বাবদ সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এ বছর জানায়, ফিফা থেকে ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎয়ের মামলায় জলিলকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই অর্থ স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল এবং তা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

গত এপ্রিলে মন্টসেরাটের একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগের কথা স্বীকার করেন ক্যাসেল ও তাঁর ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক তানদিকা হিউজ। ২০১১ সালে ক্যাসেল এবং তাঁর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে ফিফার তৎকালীন স্বাধীন নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির বিচারের সম্মুখীনও হতে হয়। কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম ফিফা সভাপতি পদে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ব্যর্থ হওয়ার সময় ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্তাদের ৪০ হাজার ডলার করে ঘুষ দিয়েছিলেন, সেই ঘটনায় জড়িত ছিলেন দুজন।

ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। ফিফার বিশ্বকাপ আয়োজনের লভ্যাংশ থেকে সংস্থাটি প্রতিবছর অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের বিদায়ের পর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেখানে একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিটি বসায় ফিফা। সংস্থাটি তখন জানায়, ‘নজিরবিহীন সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার’ কারণে মন্টসেরাটের দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি তদারকির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘অনুপযুক্ত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তাতে সহায়তা করা’, পদের অপব্যবহার এবং তহবিল তছরুপের দায়ে তানদিকা হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এ ছাড়া ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন আচরণ’ করার অভিযোগ এনেছে ফিফা। তাঁকে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ফিফার কী ধরনের এখতিয়ার রয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফিফা জানিয়েছে, হিউজকে ১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আকিলকে ১০ বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। সংস্থাটির তহবিল অপব্যবহারের বিষয় গোপন ও তাতে সহায়তা করা, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে আকিলের বিরুদ্ধে।