
বেরগামোতে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে গতকাল রাতে ইউরোপিয়ান প্লে–অফ সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে প্লে–অফের ফাইনালে উঠেছে ইতালি। চাই আর একটি জয়। তাহলেই ২০১৪ আসরের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে ইতালি। প্লে–অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এ ম্যাচ জিতলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে ইতালি।
ভ্যালেন্সিয়ায় প্লে–অফ সেমিফাইনালে অন্য ম্যাচে ইউক্রেনকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে সুইডেন। ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, কসোভো, তুরস্ক ও চেক প্রজাতন্ত্রও নিজ নিজ ম্যাচ জিতে উঠেছে প্লে–অফ ফাইনালে। আগামী সপ্তাহে প্লে–অফ ফাইনালে কসোভো ও তুরস্কের মধ্যে ম্যাচে জয়ী দল জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে।
মেক্সিকোয় আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ সেমিফাইনালে সুরিনামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বলিভিয়া। প্লে–অফ ফাইনালে দক্ষিণ আমেরিকার দলটির প্রতিপক্ষ ইরাক। অন্য ম্যাচে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে হারিয়েছে জ্যামাইকা। বিশ্বকাপে ৪৮ দলের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিতে ফাইনালে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে জ্যামাইকা।
ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। এই ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দলের তালিকা।
ইউরোপিয়ান প্লে–অফ ফাইনাল
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা-ইতালি
সুইডেন-পোল্যান্ড
কসোভো-তুরস্ক
চেক প্রজাতন্ত্র-ডেনমার্ক
আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফ ফাইনাল
ডিআর কঙ্গো-জ্যামাইকা
ইরাক-বলিভিয়া
২০২৬ বিশ্বকাপে এখনো ছয়টি দলের জায়গা খালি। ইউরোপিয়ান প্লে–অফ থেকে চারটি এবং আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফ থেকে দুটি দল জায়গা পাবে। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে এই ছয় দল নিশ্চিত হয়ে যাবে। দুটি আলাদা টুর্নামেন্টের প্লে-অফ ফাইনালের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। এক লেগের এই প্লে–অফ ফাইনালগুলো ইউরোপ ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে।
ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ থেকে চারটি এবং আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে দুটি দেশ বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। আন্তমহাদেশীয় পর্বে অংশ নিয়েছে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের (কনকাক্যাফ) দুটি এবং এশিয়া (এএফসি), আফ্রিকা (কাফ), ওশেনিয়া (ওএফসি) ও দক্ষিণ আমেরিকা (কনমেবল) থেকে একটি করে দল।
ইউরোপীয় প্লে-অফে অংশ নেওয়া প্রাথমিক ১৬টি দল নির্ধারিত হয়েছিল বাছাইপর্ব ও ২০২৪-২৫ উয়েফা নেশনস লিগে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। দলগুলোকে চারটি ‘পাথওয়ে’ বা স্তরে ভাগ করা হয়েছিল। এক লেগের সেমিফাইনাল জিতে তারা ফাইনালে উঠেছে। ড্রয়ে নির্ধারিত হয়েছে কোন দল ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে। তবে যুদ্ধের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভ্যালেন্সিয়ায় খেলছে ইউক্রেন।
আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা ও মন্তেরিতে। দুটি সেমিফাইনালে জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো ও ইরাকের। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় ডিআর কঙ্গো ও ইরাক সরাসরি প্লে–অফ ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে।