নরওয়ে ফুটবল দলের তারকা আর্লিং হলান্ড
নরওয়ে ফুটবল দলের তারকা আর্লিং হলান্ড

জন্ম এক দেশে, গায়ে অন্য দেশের জার্সি— বিশ্বকাপে ২৮৯ ‘ভিনদেশি’

জন্ম এক দেশে, খেলেন অন্য দেশের হয়ে! প্রতি বিশ্বকাপেই এমন কিছু খেলোয়াড় পাওয়া যায়। এবারের বিশ্বকাপে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরে ৪৮ দলে খেলবেন মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার। এর মধ্যে ২৮৯ জন খেলোয়াড় জন্মভূমির হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন না।

উদাহরণ চান? এই যেমন নরওয়ের মূল তারকা আর্লিং হলান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডে, মরক্কোর আশরাফ হাকিমির স্পেনে। আর্জেন্টিনার জুলিয়ানো সিমিওনে বা নিকো পাসের জন্মও কিন্তু আর্জেন্টিনায় নয়। সিমিওনের জন্ম ইতালিতে আর পাজের জন্ম স্পেনে।

এই ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু আফ্রিকার দেশগুলো। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, সেনেগাল, আইভরিকোস্ট, ঘানা, কেপ ভার্দে এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্কোয়াডে এমন বিপুলসংখ্যক ফুটবলার আছেন, যাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনে জন্মগ্রহণ করেছেন।

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া কুরাসাও আবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৫ জনেরই জন্ম নেদারল্যান্ডসে। একমাত্র তাহিথ চং ছাড়া পুরো স্কোয়াডের সবার জন্মই সেখানে।

চং কুরাসাওয়ে জন্ম নিলেও তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে ইউরোপে এবং তিনি নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব ২১ দলের হয়েও খেলেছেন। তবে কুরাসাওর ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানের পেছনে একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে দ্বীপটি একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ হলেও এটি এখনো নেদারল্যান্ডসের অংশ।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। তাদের বিশ্বকাপ দলের ২০ জনের জন্মই কঙ্গোতে নয়। গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১৯ জন। বসনিয়ার বিশ্বকাপ দলে ১৭ জন, ১৬ জন করে আছেন হাইতি ও আলজেরিয়া দলে।

জুলিয়ানো সিমিওনে

এসব খেলোয়াড়ের অনেকেই অভিবাসীদের সন্তান বা নাতি-নাতনি, যাঁরা ইউরোপে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানেই ফুটবলের দীক্ষা নিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁরা তাঁদের পরিবারের জন্মভূমিকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা একটা অন্যতম কারণ।

তবে এই প্রবণতা এখন আর শুধু আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আর্জেন্টিনা দলই এর উদাহরণ। জুলিয়ানো সিমিওনে বা নিকো পাজ বাবার কর্মসূত্রে জন্ম নিয়েছিলেন অন্য দেশে। সিমিওনের বাবা দিয়েগো সিমিওনে যখন ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে খেলতেন, তখন সেখানে জন্ম তাঁর এবং নিকোলাস পাজের জন্মের সময় তাঁর বাবা পাবলো পাজ স্প্যানিশ লিগে খেলতেন।

আর্জেন্টিনাও অন্য জাতীয় দলগুলোতে খেলোয়াড় জুগিয়েছে। সান্তিয়াগো হিমেনেজ (মেক্সিকো), হুয়ান হোসে কাসেরেস, আলেহান্দ্রো সেবাস্তিয়ান রোমেরো গামারো ও আদ্রিয়ান আন্দ্রেস কুবাস (প্যারাগুয়ে), হার্নান গালিন্দেজ (ইকুয়েডর) এবং ফার্নান্দো মুসলেরা (উরুগুয়ে)—তাঁদের সবার জন্মই আর্জেন্টিনায়।