
চার দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) নিয়মিত মৌসুমের ম্যাচ দেখতে মাঠে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মেরিল্যান্ডের ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয় ওয়াশিংটন কমান্ডার্স ও ডেট্রয়েট লায়ন্স। তবে মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা ট্রাম্পের জন্য সুখকর হয়নি।
খেলার প্রথমার্ধের শেষ দিকে বড় পর্দায় ট্রাম্পকে দেখানো হলে গ্যালারির অনেক দর্শক তাকে উদ্দেশ করে দুয়ো দিতে শুরু করেন। সে সময় তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে একটি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরতির সময় স্টেডিয়ামের ঘোষক যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতির কথা জানান, তখনো গ্যালারির একাংশ থেকে একই প্রতিক্রিয়া শোনা যায়।
এর আগে বিমান থেকে নামার পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটু দেরি করে ফেলেছি।’ এরপর তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে স্টেডিয়ামের পথে রওনা দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘খেলাটা দারুণ হবে। সবকিছু ভালোই চলছে। দেশও ভালো আছে।’
ট্রাম্প মাঠে পৌঁছানোর আগেই, ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে লায়ন্সের রিসিভার আমন-রা সেন্ট ব্রাউন টাচডাউন করেন। এরপর তিনি গ্যালারির দিকে ইশারা করে হাত নেড়ে উদযাপন করেন, যা ছিল ‘ট্রাম্প ড্যান্স’-এর আদলে। গত বছর কয়েকজন খেলোয়াড় এই উদ্যাপনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
মাঠে আসার পর তৃতীয় কোয়ার্টারের সময় ট্রাম্প প্রায় আট মিনিট ধরে ফক্স স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার কেনি অ্যালবার্ট ও জনাথন ভিলমার সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন। শুরুতেই অ্যালবার্ট তাঁকে জিজ্ঞেস করেন নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পড়ার সময় ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তখন “টাইট এন্ড” (এমন এক খেলোয়াড়, যিনি একই সঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ভূমিকায়ই কাজ করেন) হিসেবে খেলতাম। তবে সেটি এখনকার ফুটবলের মতো ছিল না। তুলনায় অনেক সহজ ছিল, এত কঠিন নয়।’
এনএফএলের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকাবস্থায় নিয়মিত মৌসুমের কোনো এনএফএল খেলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির ঘটনা এর আগে মাত্র দুবার ঘটেছে—১৯৬৯ সালে রিচার্ড নিক্সন এবং ১৯৭৮ সালে জিমি কার্টার।
এদিকে ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এক মধ্যস্থতাকারী ওয়াশিংটন কমান্ডার্সের মালিকপক্ষকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান ক্লাবটির নতুন স্টেডিয়ামটির নাম তাঁর নামে রাখা হোক। ওয়াশিংটন শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রস্তাবিত এই স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার, যেখানে একসময় পুরোনো আরএফকে স্টেডিয়াম ছিল।
বলে রাখা ভালো, ট্রাম্প ১৯৮০-এর দশক থেকে এনএফএল দলের মালিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে কখনো সফল হননি। এনএফএলে না পারলেও ট্রাম্প নিউ জার্সি জেনারেলস দলের মালিক হয়েছিলেন, এটি ইউনাইটেড স্টেটস ফুটবল লিগের (ইউএসএফএল) অংশ ছিল। দুই লিগকে একত্র করার জন্য করা একটি মামলার নেতৃত্বও দেন ট্রাম্প। আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএসএফএল মামলায় জিতলেও তেমন কোনো লাভ হয়নি। লিগটি এখন বিলুপ্ত।
এনএফএল ম্যাচে ট্রাম্পের উপস্থিতি মূলত খেলাধুলার বড় ইভেন্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধারাবাহিক উপস্থিতির সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গলফের রাইডার কাপ, অটো রেসিং ডেটোনা ৫০০ এবং টেনিসের গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। খেলাধুলার ইভেন্টে উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এটা সত্যিই ভালোবাসি। এটা জীবনের ক্ষুদ্র এক রূপ। অনেকটা জীবনের মতোই—ভালো, খারাপ এবং কুৎসিত সবকিছুর মিশ্রণ।’