বড় পরিবর্তন আসছে ব্যাডমিন্টনে। শনিবার ডেনমার্কে ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় স্কোরিংসহ একাধিক বিষয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় ২৪৫টি ভোটের মধ্যে ১৯৮টিই পড়েছে পরিবর্তনের পক্ষে, ৪৩টি ভোট পড়েছে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে।
ব্যাডমিন্টনের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিবর্তিত নিয়মকে ‘ব্যাডমিন্টনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছে। ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে এসব নিয়ম কার্যকর হবে।
বিডব্লিউএফ জানিয়েছে, গেমের সময় কমে আসায় খেলা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর হবে। সেই সঙ্গে এটি খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং চোটের ঝুঁকিও কমবে। ডেনমার্কে বিডব্লিউএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই ৩x১৫ স্কোরিং পদ্ধতির প্রস্তাব ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়েছে।
মোটাদাগে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে—
১. কমেছে পয়েন্ট
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি গেম পয়েন্টে। ৩টি গেমের ২১ পয়েন্ট ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ৩টি গেমে ১৫ পয়েন্ট করা হচ্ছে। অর্থাৎ ম্যাচগুলো তিন গেমেরই (বেস্ট অব থ্রি) থাকবে, কিন্তু প্রতিটি গেমে ২১ পয়েন্টের বদলে ১৫ পয়েন্ট থাকবে।
২. গেমে সেটিং এবং পয়েন্ট লিমিট
যদি কোনো গেমে স্কোর ১৪-১৪ সমতায় পৌঁছায়, তবে টানা ২ পয়েন্টের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে খেলা খুব বেশি লম্বা হবে না; কারণ, পয়েন্টের সর্বোচ্চ সীমা বা ক্যাপ করা হয়েছে ২১ পয়েন্ট। অর্থাৎ কোনো গেম ২১-২০ স্কোর পর্যন্ত গেলে ২১তম পয়েন্ট অর্জনকারীই জয়ী হবে, যা আগে ছিল ৩০ পয়েন্ট।
৩. বিরতির সময়
আগে ১১ পয়েন্টে ‘টেকনিক্যাল টাইম আউট’ নামে যে বিরতি দেওয়া হতো, নতুন নিয়মে তা ৮ পয়েন্টে দেওয়া হবে। বিরতির সময় ৬০ সেকেন্ডই থাকছে।
বিডব্লিউএফ ব্যাডমিন্টনের দৈর্ঘ্য কমানোর কথা ভাবছিল অনেক দিন ধরে। এর অন্যতম কারণ টিভি সম্প্রচার। বর্তমানে যেসব ম্যাচ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়, সেগুলো শেষ হতে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট, কখনো কখনো ৮০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। তবে একটি ম্যাচের গড় সময় আধা ঘণ্টার আশপাশে নিয়ে আসতে চায় বিডব্লিউএফ। আর সেই ভাবনা থেকেই পয়েন্ট কমিয়ে আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিডব্লিউএফের প্রেসিডেন্ট খুনয়িং পাতামা লিসওয়াদাত্রাকুল বলেন, ‘আমরা এমন একটি খেলা তৈরি করছি, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হবে।’ কীভাবে আকর্ষণীয় হবে, সেই ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘১৫ পয়েন্টের তিনটি গেমের এই স্কোরিং পদ্ধতির লক্ষ্য হলো ব্যাডমিন্টনকে আরও রোমাঞ্চকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। এর ফলে ম্যাচের সূচি আরও সহজ হবে, খেলার সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য আসবে এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।’
ম্যাচের সময় কমে আসার পাশাপাশি খেলায় উত্তেজনাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। গেম ছোট হওয়ায় খেলোয়াড়দের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হতে হবে।
হুট করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ ও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের মতো নির্দিষ্ট কিছু গ্রেড-৩ টুর্নামেন্টে এ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়েছিল বিডব্লিউএফ। মোট পাঁচটি ভিন্ন স্কোরিং পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও আলোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও বিডব্লিউএফের এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন, তবে লিসওয়াদাত্রাকুল আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমরা জানি, কোনো পরিবর্তন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী খেলার। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ব্যাডমিন্টনের মৌলিক চরিত্রকে বদলে দেবে না। খেলার চিরাচরিত দক্ষতা, কৌশল, শারীরিক ও মানসিক চাহিদা এবং নাটকীয়তা—সবই আগের মতো থাকবে।’
ব্যাডমিন্টনে স্কোরিং পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আগেও হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে বর্তমানের ৩x২১ পদ্ধতি চালু আছে। তার আগে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৫x৭ (৭ পয়েন্টের ৫টি গেম) পদ্ধতি চালু করা হলেও অতিরিক্ত সময়ের কারণে তা বাতিল করা হয়।
২০০২ সালের আগে নিয়ম ছিল পুরুষদের জন্য ১৫ ও নারীদের জন্য ১১ পয়েন্টের তিনটি গেম। তখন শুধু নিজের সার্ভিসের সময় পয়েন্ট জেতার নিয়ম (সার্ভিস-ওভার সিস্টেম) প্রচলিত ছিল। ২০০৪ অলিম্পিকেও ১৫ পয়েন্টের তিনটি গেমের ফরম্যাট ব্যবহৃত হয়েছিল। এরপর বর্তমান নিয়মের অধীন চলেছে টুর্নামেন্টগুলো।