‘মেসি আমাকে কখনোই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ছুঁতে দেবে না’—নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড এমন মন্তব্য করেছেন দাবি করে একটি স্ক্রিনশট দেশি-বিদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যমের লিংক: প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক, ষষ্ঠ লিংক, সপ্তম লিংক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক
যাচাই করে লিওনেল মেসিকে নিয়ে আর্লিং হলান্ডের এমন কোনো মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে দেখা যায়, হলান্ডের স্ন্যাপচ্যাটে দেওয়া একটি ভিন্ন স্টোরির স্ক্রিনশট সম্পাদনা করে সেখানে নতুন করে ‘Messi is never letting me touch the World Cup Golden Boot’ লেখা যুক্ত করা হয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপের মধ্যে এর আগে লিওনেল মেসিকে ঘিরে একাধিক ভুয়া উদ্ধৃতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিওর নামে মেসিকে ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ স্বীকার করার দাবি প্রচারিত হয়। পরে রোনালদো নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর নামে প্রচারিত সেই সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণ মনগড়া।
একইভাবে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির নামেও মেসিকে নিয়ে একটি উদ্ধৃতি ভাইরাল হয়েছিল, যারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
১১ জুন শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ছয় গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁর পেছনেই রয়েছেন চার গোলের মালিক আর্লিং হলান্ড।
এমন প্রেক্ষাপটেই ‘মেসি আমাকে কখনোই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ছুঁতে দেবে না’ মন্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে প্রতিবেদনগুলোর অধিকাংশেই হলান্ড ঠিক কোন প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেছেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও কয়েকটি প্রতিবেদনে একটি স্ক্রিনশট ব্যবহার করা হয়, যেখানে হলান্ডের ছবির সঙ্গে ইংরেজিতে ওই মন্তব্য দেখা যায়।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Playmaker’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টসহ একাধিক অ্যাকাউন্ট ২৮ জুন একই স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করে, এটি হলান্ডের স্ন্যাপচ্যাট স্টোরি।
প্রথমে হলান্ডের স্ন্যাপচ্যাটে প্রচারিত স্টোরির প্রমাণ খোঁজা হয়। তবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এমন কোনো স্টোরি বা মন্তব্যের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেহেতু স্ন্যাপচ্যাট স্টোরি ২৪ ঘণ্টা পর মুছে যায়, তাই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হলান্ডের অফিশিয়াল এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। কোথাও আলোচিত মন্তব্যের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদ পোর্টালগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। সেখানেও এমন কোনো মন্তব্যের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের পর হলান্ড স্ন্যাপচ্যাটে ‘Messi is a madman’ লিখেছিলেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক
ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।
লিংক: এখানে
অর্থাৎ হলান্ডের স্ন্যাপচ্যাটের কোনো আলোচিত প্রতিক্রিয়া থাকলে সেটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রতিফলিত হওয়ার নজির রয়েছে।
২৩ জুন হলান্ড স্ন্যাপচ্যাটে ‘What a journey’ এবং ‘So happy’ লিখে দুটি স্টোরি দিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে দুটি স্টোরির স্ক্রিনশট প্রকাশিত হয়।
স্ক্রিনশটগুলো নিয়ে পরদিন সংবাদও প্রকাশিত হয়।
লিংক: এখানে
এর মধ্যে ‘What a journey’ লেখা স্টোরিতে ব্যবহৃত ছবিটির সঙ্গে ভাইরাল স্ক্রিনশটে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
দুটি ছবি তুলনা করে দেখা যায়, ছবির ফ্রেম, পোশাক, মুখের অভিব্যক্তি এবং অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান একই। পার্থক্য কেবল স্টোরির লেখায়। মূল স্টোরিতে যেখানে ‘What a journey’ লেখা ছিল, সেখানে সম্পাদনার মাধ্যমে ‘Messi is never letting me touch the World Cup Golden Boot’ লেখা যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ বিদ্যমান একটি স্ন্যাপচ্যাট স্টোরির ছবি ব্যবহার করে নতুন লেখা সংযোজনের মাধ্যমে ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করা হয়েছে।